যমুনা নদীর উপর নির্মিত হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু। বঙ্গবন্ধু সেতুর উপর দিয়ে নানা সীমাবদ্ধতা নিয়ে রেল পারাপার হলেও বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে হবে দেশের সব থেকে বড় ডেডিকেটেড ডাবল লেনের এই রেলসেতু।
সেতুটি নির্মাণ হলে যাত্রী সেবার মান বদ্ধির পাশাপাশি সিরাজগঞ্জ সহ উত্তরবঙ্গের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে বলে ধারণা স্থানীয়দের। আর রেল মন্ত্রী বলছেন, এই সেতু চালু হলে রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক তৈরি হবে।
রবিবার সকালে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই রেল সেতুর ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করবেন প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা।
১৯৯৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতু চালুর মধ্য দিয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে উত্তর ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ চালু হয়। প্রথমে ব্রডগেজ ও মিটারগেজের ৪টি ট্রেন দৈনিক ৮ বার পারাপারের পরিকল্পনা থাকলেও যাত্রী চাহিদায় বাড়তে থাকে সেতুর উপর দিয়ে চলাচলকারী ট্রেনের সংখ্যা।
এছাড়া ২০০৮ সালে বঙ্গবন্ধু সেতুতে ফাটল দেখা দেওয়ায় কমিয়ে দেওয়া হয় ট্রেনের গতি। বর্তমানে ৩৮টি ট্রেন নিয়মিত স্বল্প গতিতে ঝুকি নিয়ে পারাপার হলেও সময় অপচয়ের পাশাপাশি ঘটছে সিডিউল বিপর্যয়। ফলে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি। ট্রেন যোগযোগ ব্যবস্থার আরো উন্নয়ন ঘটাতে বঙ্গবন্ধু সেতুর ৩০০ মিটার উজানে নির্মাণ করা হচ্ছে ৪.৮ কিলোমিটার দৈর্ঘের দেশের সর্ব বৃহৎ ডেডিকেডেট ডাবল লেনের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলসেতু।
এই সেতুর উপর দিয়ে একশত কিলোমিটার বেগে দু‘টি ট্রেন এক সঙ্গে চলাচল করতে পারবে। উন্মক্ত হবে সকল প্রকার পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল। যার ফলে সময় সাশ্রয় হওয়ার পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আর্থ সামাজিক উন্নয়ন এবং ব্যবসা বানিজ্যের ব্যাপক প্রসার ঘটবে। সেই সাথে দীর্ঘদিনের ভোগািন্ত কমবে দ্রুত গন্তব্য পৌছা যাবে বলে রেল কর্তৃপক্ষ দাবী করেছেন।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ স্বার্থরক্ষা সংগ্রাম কমিটির সদস্য নব কুমার কর্মকার বলেন, উত্তরবঙ্গের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ করতে সিরাজগঞ্জ শহর হয়ে বগুড়া পর্যন্ত রেললাইন স্থাপন করার দাবী সিরাজগঞ্জবাসির দীর্ঘদিনের। এ সেতুর ভিত্তি স্থাপনের মধ্যদিয়ে সে দাবী আরো এক ধাপ বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাবে।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড. ফারুক আহম্মেদ জানান, এই রেল সেতু নির্মানের ফলে একদিকে সময় সাশ্রয়ী হবে এবং ব্যবসা বাণিজ্যেও গতি বাড়বে। যা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ফিরে আসবে সিরাজগঞ্জ সহ পুরো উত্তর বঙ্গের প্রাণ।
রেল মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন বলেন, জাপান এবং বাংলাদেশ সরকারের যৌথ অর্থায়নে ১৬ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে এই রেল সেতুটি নির্মাণ হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে জাইকা। ২০২৪ সালের আগষ্ট মাসের মধ্যে কাজ সমাপ্ত হবে। এই রেল সেতু দিয়ে ডাবল লাইন ডুয়েল গেজ হওয়ার পর ক্রসিং ছাড়াই সেতুর উপর দিয়ে একশত কিলোমিটার বেগে একই সাথে দুটি ট্রেন চলাচল করতে পারবে। পাশাপাশি সব ধরণের মালামাল পরিবহণ করতে পারবে এই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেল সেতু দিয়ে।
