সরকারের কথায় নাচলে আপনাদেরই ক্ষতি: আলেমদের প্রতি জাফরুল্লাহ

আপডেট : ০৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:০০ পিএম

দেশের বিরাজমান নৈরাজ্য থেকে জনদৃষ্টি ভিন্ন খাতে ফেরাতেই সরকার আলেমদের মাঠে নামিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। শুক্রবার এক মানববন্ধনে এ কথা করেন।

তিনি বলেন, “আজকে চারদিকে যে নৈরাজ্য, এই নৈরাজ্য থেকে দৃষ্টি সরানোর জন্য সরকারই আলেমদের বিপথে চালিত করেছে। আমি আলেমদের বলি, অযথা এসব বিতর্কের না জড়িয়ে আন্দোলনে আসেন। দ্রব্যমূল্য বেড়েছে, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হচ্ছে না তার জন্য। সরকারের কিছু পয়সা পেয়ে তাদের কথায় নাইচেন না, তাদের কথায় নাচলে আপনাদেরই ক্ষতি হবে।”

ঢাকা মহানগরে পূর্বানুমতি ছাড়া সভা-সমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে ডা. জাফরুল্লাহর বলেন, “আজকে পুলিশকে দিয়ে যে হঠাৎ নোটিশ ডিএমপির। আমি বলি, পুলিশ সরকারের খাদেম নয়, জনগণের খাদেম। পুলিশের শত অভাব-অভিযোগ আছে। আজকে পুলিশ অফিসারদের সরকারি বাড়ি-ঘর নেই। তাদের বাইরে গিয়ে থাকতে হয় বেতনের চেয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে। এই অবস্থায় থাকলে তারা ঘুষ খাবে না কী করবে। পুলিশ বাহিনীর প্রতি আমার আবেদন থাকবে অন্যায় নির্দেশের কথা আপনারা শুনবেন না।”

ওষুধের মূল্য বৃদ্ধির প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা বলেন, “আজকে ওষুধ থেকে শুরু করে প্রত্যেকটা দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে বহু গুন। সরকার যদি নীতি মানে ১৫ দিনের মধ্যে ওষুধের দাম কমপক্ষে অর্ধেক হবে। ১৯৮২ সালের যে ওষুধ নীতি করা হয়েছে সেখানে পর্যাপ্ত লাভ দিয়ে ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। ভ্যাকসিন নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ার কারণ নাই। এই ভ্যাকসিন প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এটা…। আপনাদেরকে একটা কথা বলি, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে পরিষ্কারভাবে লিখেছে, তাড়াহুড়া করলে ভ্যাকসিন ভালোভাবে চেক করা যায় না।”

বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আনার বিষয়ে বলেন, “আপনারা জানেন, বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আনতে যে চুক্তি করেছে সালমান এফ রহমানের বেক্সিমকোর মাধ্যমে। সেটা ২ ডলার কমে পেতো যদি সরকারি কোম্পানি বিটিসিএলের মাধ্যমে আনা হতো। সরকারকে বলি, এটা আপনার বাবার পয়সা না, এটা জনগণের পয়সা। অপব্যয় করার অধিকার আপনার নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আপনাকেও তারা বোকা বানাচ্ছেন, অনুগ্রহ করে ন্যায়-নীতির দিকে থাকেন।”

জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ লেবার পার্টির উদ্যোগে স্বাস্থ্য খাতে নৈরাজ্য ও দুর্নীতি বন্ধ ও ওষুধের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরানের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার ও বিএনপির প্রান্তিক জনশক্তি বিষয়ক সম্পাদক অপর্ণা রায় বক্তব্য রাখেন।

মানববন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন লেবার পার্টির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার ফরিদ উদ্দিন, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব লায়ন ফারুক রহমান, গণস্বাস্থ্যের প্রেস উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম মিন্টু, লেবার পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক হুমায়ূন কবির, আবদুর রহমান খোকন, বিএনপির রফিক শিকদার, সেলিনা সুলতানা নিশিতা, আরিফা সুলতানা রুমা, সানজিদা ইয়াসমীন তুলি, কৃষক দলের রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমূখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত