সেশনজট নিরসন, দ্রুত সময়ে ফলাফল প্রকাশসহ ছয় দফা দাবিতে আবারও মানববন্ধনের ডাক দিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত রাজধানীর সরকারি সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা। আগামী বুধবার সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে দ্বিতীয় দফায় এ মানববন্ধন করবেন তারা।
শিক্ষার্থীরা জানান, ২০১৭-১৮ ও ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের ২.০০/২.২৫/২.৫০ পয়েন্টে পরবর্তী বর্ষে প্রমোটেড নিয়ম বাতিল, সর্বনিম্ন তিন বিষয় পর্যন্ত অকৃতকার্যদের প্রমোটেড দেওয়া, অনার্স ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের দ্বিতীয় বর্ষের ইম্প্র“ভ পরীক্ষা আগামী এক মাসের মধ্যে নেওয়াসহ তৃতীয় বর্ষের চূড়ান্ত পরীক্ষা অতি দ্রুত নিয়ে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে।
তাদের দাবির মধ্যে রয়েছে ২০১৫-১৬ সেশনের শিক্ষার্থীদের চতুর্থ বর্ষের পরীক্ষা অতিদ্রুত নিয়ে ফলাফল প্রকাশ করতে হবে। সব বর্ষের ফলাফল প্রকাশে সর্বোচ্চ ৯০ দিনের বেশি না নেওয়া। একই সেশনে একের অধিক বর্ষের শিক্ষার্থী রাখা যাবে না এবং ডিগ্রি ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের চলমান বিশেষ পরীক্ষা অতি দ্রুত নিয়ে এক মাসের মধ্যে ফলাফল প্রকাশিত করাসহ সব ইম্প্র“ভ পরীক্ষা অতি দ্রুত নিয়ে ডিগ্রি অনার্স, মাস্টার্সসহ সব বর্ষের ফলাফল গণহারে অকৃতকার্য হওয়ার কারণসহ খাতা পুনর্মূল্যায়ন করতে হবে।
২০১৬-১৭ সেশনের শিক্ষার্থী ওবায়দুল্লাহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চাকরির বাজারে আমরা পিছিয়ে নানাবিধ জটিলতার কারণে। আমরা চাই পড়াশোনার গতিশীলতা। সেশনজট গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। কার্যকরী ফলাফল না পাওয়ায় আমরা শিক্ষার্থীরা পুনরায় মানববন্ধন এবং আন্দোলনের কথা চিন্তা করেছি।’
ঢাকা কলেজের আরেক শিক্ষার্থী সাইমুম ইসলাম বলেন, ‘সরকারি সাতটি কলেজের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শেষ নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বরাবর আমাদের সঙ্গে বৈষম্য সৃষ্টি করছে। কয়েকবার আমরা অলিখিত অভিযোগ করেও সমাধান চেয়েছি। রাস্তায়ও নেমেছি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। অনতিবিলম্বে আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই।’
শিক্ষার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে ২০১৭ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর ঢাকা কলেজ, ইডেন কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর বাঙলা কলেজ ও সরকারি তিতুমীর কলেজ এ সাত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) অধিভুক্ত করা হয়। বর্তমানে সাত কলেজের অধ্যয়নরত শিক্ষার্থী প্রায় আড়াই লক্ষাধিক।
