মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে না দাঁড়ালে সামনে বিপর্যয়: রানা দাশগুপ্ত

আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৩৬ পিএম

মৌলবাদী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াতে ব্যর্থ হলে বিপর্যয় অনিবার্য বলে মন্তব্য করেছেন যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত।

সোমবার বিকেলে চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগী পাহাড় মোড়ে এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

‘বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ও শিল্পবিরোধী সাম্প্রদায়িকতা গোষ্ঠীর অপতৎপরতা রুখে দাঁড়ান’ স্লোগান নিয়ে চট্টগ্রামের সচেতন নাগরিক সমাজ ও সর্বস্তরের সংস্কৃতিকর্মী এই মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে।

রানা দাশগুপ্ত বলেন, ১৯৭১ সালে হানাদারের এদেশীয় দালালদের আনুষ্ঠানিক পরাজয় হয়েছে। কিন্তু স্বাধীন বাংলাদেশে এই পরাজিত শক্তির রাজনীতিকে নির্মূল করা হয়নি। দীর্ঘ ৫০ বছরে রাজনীতিতে অবস্থান নিয়ে নানা কূটচালে পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে তারা তৎপর রয়েছে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর বছরে আজ সেই কাজটি করার দুঃসাহস দেখিয়েছে। রাষ্ট্র ও রাজনীতির সাথে সম্পর্কিত হয়ে, প্রশ্রয় পেয়ে সাম্প্রদায়িকতাকে-মৌলবাদীতাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে হাত দেওয়ার যে স্পর্ধা দেখিয়েছে, তা কোনোভাবেই বাঙালি জাতি মেনে নিতে পারে না।

হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত ১৯৯১-৯২, ২০০১-০৬ সালে সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের চিত্র তুলে ধরে রামু, কুমিল্লার মুরাদনগরের সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের সাম্প্রতিক ঘটনার কথা তুলে ধরে বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে আজ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তির অনৈক্য বিভাজন তাদের শক্তি যুগিয়েছে। আর পেছনে ফিরে থাকার সুযোগ নেই। চলুন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় ৭১ এ যারা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছিলাম সেভাবে ঐক্যবদ্ধভাবে দাঁড়াই হবে। যদি দাঁড়াতে ব্যর্থ হই তাহলে বিপর্যয় অনিবার্য।

সমাবেশে কবি-সাংবাদিক আবুল মোমেন বলেন, এরা বর্তমান সরকারের কোনো কোনো মহলের কাছ থেকে প্রশ্রয় পেয়েছে। আমরা মনে করি, যথেষ্ট হয়েছে। এবারে চিহ্নিত ধর্মবিরোধী, ধর্ম ব্যবসায়ীদের অবিলম্বে রুখে দাঁড়াতে হবে। রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। এই বাংলাদেশে তাদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে।

মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আবছার বলেন, এই সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠিটিকে মদদ দেওয়া হয়েছে, তাই তারা আজ মাথাচাড়া দিয়েছে। আজ সামলাতে পারছে না। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙার ধৃষ্টতা দেখাচ্ছে। অবিলম্বে মুক্তিযুদ্ধের এই পরাজিত শক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।

আবৃতি শিল্পী রাশেদ হাসানের সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক হোসাইন কবির, উদীচী চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শীলা দাশগুপ্ত, খেলাঘর চট্টগ্রাম মহানগরের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রোজী সেন, ছাত্র ইউনিয়ন চট্টগ্রাম জেলার সাধারণ সম্পাদক ইমরান চৌধুরী, সঙ্গীত শিল্পী শ্রেয়সী রায় প্রমুখ। 

সমাবেশে সম্মিলিত আবৃত্তি পরিষদ, হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন, সামাজিক সংগঠন ‘কন্ঠনিড়’সহ বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত