সমালোচনার মুখে ‘অটোপাসের’ সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে নতুন নিয়মে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেট। নতুন নেয়া সিদ্ধান্ত অনুসারে ৫০% শ্রেণি মূল্যায়ন ও ৫০% চূড়ান্ত পরীক্ষার ফল অনুসারে নম্বর দেওয়া হবে। ৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত জরুরি সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত হয়।
এর আগে ৫ ডিসেম্বর অনলাইনে অনুষ্ঠিত একাডেমিক কাউন্সিলে শ্রেণি মূল্যায়নের ৩০ নম্বরের বাইরে ২০ নম্বরের ভাইভা ও বাকি ৫০ নম্বর বিগত বর্ষের রেজাল্ট থেকে গড় করে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের ফলাফল ঘোষণার প্রস্তাবনা আসে। এ নিয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে সমালোচনার ঝড় ওঠে। পরে জরুরী সিন্ডিকেট ডেকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নতুন সিদ্ধান্ত নেয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুসারে ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে স্নাতক চূড়ান্ত বর্ষের পরীক্ষার রুটিন ঘোষণা এবং ২১ জানুয়ারির মধ্যে সব পরীক্ষা শেষ করে ২৪ জানুয়ারির মধ্যে নম্বরপত্র পরীক্ষা কমিটি ও পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অফিসে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি (শিক্ষা) অধ্যাপক নুরুল আলম সাংবাদিকদের বলেন, নতুন নিয়মে আমাদের অর্ডিন্যান্সে যে ইনকোর্স ৩০ মার্কিং নির্ধারিত আছে তা ঠিক থাকবে। এর বাইরে চূড়ান্ত পরীক্ষার অংশ হিসাবে ৩০ নম্বরের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ৩০ নম্বরের মধ্যে ২০ নম্বর ভাইভার মাধ্যমে ও বাকি ১০ নম্বর অ্যাসাইনমেন্টের মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। ইনকোর্সের ৩০ নম্বর ও চূড়ান্ত পরীক্ষার ৩০ নম্বরকে মোট করে ১০০ নম্বরে কনভার্ট করা হবে।
অধ্যাপক নুরুল আলমের দেওয়া তথ্যমতে, ইনকোর্স মার্ক থাকছে ৫০% যার মধ্যে ১৬.৫% উপস্থিতি মার্ক। চূড়ান্ত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ৫০% নম্বরে যার মধ্যে ৩৩% নাম্বার ভাইভা ও ১৭% নম্বর অ্যাসাইনমেন্টের জন্য নির্ধারিত থাকছে।
অধ্যাপক নুরুল আলম আরো জানান, এ পদ্ধতি কেবল অনার্স ফাইনাল ইয়ারের শিক্ষার্থীদের জন্য। আমরা শুধু বিসিএস না তাদের দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকাকে আমলে নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
স্নাতক চূড়ান্ত পর্বের পরীক্ষার পর মাস্টার্স পর্বের পরীক্ষার কথা ভাবা হবে বলেও জানান অধ্যাপক নুরুল আলম।
