ব্যবসা বাড়াতে অনলাইনের সহায়তা নেয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে নারীরা কী সুবিধা পাচ্ছেন এ নিয়ে এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিবিসি বাংলা।
একেবারে বাড়িতে রান্না করা খাবার নিয়ে অনলাইন ভিত্তিক সেবা দেয় ‘মিস কাঁটাচামচ’ নামে একটি উদ্যোগ। ফেসবুকে রয়েছে তাদের নিজেদের একটা পেজ। কিন্তু তারপরেও তারা বিভিন্ন গ্রুপের সদস্য।
মিস কাঁটাচামচের স্বত্বাধিকারী মেহজাবিন ইসলাম জানান, অন্তত ৫ থেকে ৭ টা গ্রুপের সদস্য তারা।
তিনি বলেন, ‘আগে দুই মাসে ১০০টা অর্ডার পেতাম এখন ১৫০ টা খাবারের অর্ডার পাই।’
মেহজাবিন আরেকটু নির্দিষ্ট করে বলেন, ‘বিশেষ করে নারীদের যে গ্রুপ রয়েছে সেগুলোতে পোস্ট দিচ্ছি। কারণ ফুড আইটেমের পেজে অনেকে পোস্ট দেয় সেখানে নিজেদের সার্ভিসের কথা অনেকের ভিড়ে হারিয়ে যায়। কিন্তু শুধু মেয়েদের নিয়ে যে পেজ সেখানে দিলে সুবিধা বেশি হয়।’
সিফাত হোসেন কাপড় এবং ড্রাই ফ্রুট অ্যান্ড নাটস এসব নিয়ে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘অর্গানিকভাবে আমার পেজ থেকে আগে কম অর্ডার পেতাম কিন্তু বিভিন্ন পেজের সদস্য হওয়ার পর আমার পরিচিতের বাইরে অনেকে অর্ডার করে। আমার পেজটা বুস্ট হয় এরপর থেকে।’
ফেসবুকে এ ধরনের কতো গুলো গ্রুপ রয়েছে এবং সেগুলোর মাধ্যমে কতো টাকার ব্যবসা হচ্ছে সেটা সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমটিতে এই গ্রুপগুলো অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য একটা মোক্ষম সুযোগ হয়ে উঠেছে, যা অনেকেই হাতছাড়া করতে চাচ্ছেন না।
‘উইমেন ইন ই কমার্স’ নামে একটি ফেসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন আছিয়া নিলা। তিনি উইমেন ইন ডিজিটাল নামের আইটি ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা।
২০১৫ তে তিনি এই গ্রুপ তৈরি করেন। যাতে করে গ্রামের একেবারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা যুক্ত হতে পারেন।
আছিয়া নিলা বলছেন, যদি তার গ্রুপ থেকে কোনো ক্রেতা বিদেশ থেকে অর্ডার করেন এবং বিক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগটা তারাই করিয়ে দেন তাহলে সেখান থেকে শতকরা হারে লাভের একটা অংশ তিনি নেন।
আবার অনেকে নিজেদের জীবনবৃত্তান্ত বা পোর্টফোলিওতে এখন অন্যান্য যোগ্যতার পাশাপাশি লেখেন তিনি একটি গ্রুপ পরিচালনা করেন। যেখানে সদস্য রয়েছে কয়েক হাজার।
গ্রুপের মাধ্যমে প্রচারণা চালিয়ে সহজে যে কেউ ব্যবসা বাড়াতে পারে এখন। বিশেষ করে নারীদের জন্য এটি আরও বেশি সহায়ক। যেহেতু করোনাকালে লকডাউনে পড়ে অনেক নারীই ঘরে বসে উপার্জনের পথ খুঁজছেন।
