আদালতের নির্দেশে স্ত্রী-সন্তানকে না পাওয়ায় আত্মহত্যা করেছেন হাাফিজুর রহমান নামে এক ব্যক্তি (৩২)। ঘটনাটি ঘটে সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টায় হবিগঞ্জ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, হাফিজুরের দায়ের করা মামলায় শিশু সন্তান আরফিনকে কোলে নিয়ে বুশরা, তার মা ও তিন বোনসহ আদালতে হাজিরা দিতে আসেন। আদালতে বুশরা তার জবানবন্দিতে স্বামীর পরিবর্তে মায়ের সঙ্গে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। তার ইচ্ছা অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা বুশরাকে সন্তানসহ মায়ের সঙ্গে থাকার অনুমতি দেন। এই আদেশ শুনে বাদী হাফিজুর ভেঙে পড়েন। তিনি এজলাস কক্ষ থেকে বেরিয়ে তার শিশু সন্তান আরফিনকে কোলে নিতে চান। কিন্তু স্ত্রী তাতে রাজি হননি। এ সময় হাফিজুর সন্তানকে কোলে না পেলে মরে যাবেন বলে চিৎকার দেন। কিন্তু বুশরা এতে সাড়া না দেওয়ায় জনসম্মুখে তিনি একটি ছুরি বের করে নিজের বুকের বাম দিকে উপর্যুপরি আঘাত করেন।
সংকটাপন্ন অবস্থায় তাকে হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
হবিগঞ্জ সদর থানার এসআই সহিদুল ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, এ ব্যাপারে সদর থানায় একটি জিডি হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেয়া হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হবিগঞ্জ শহরের সুলতান মাহমুদপুর এলাকার ডেকোরেটরের কর্মচারী হাফিজুর গত ২০১৮ সালে বানিয়াচং উপজেলার কুর্শি খাগাউড়া গ্রামে বুশরা বেগমকে (২৭) বিয়ে করেন। মিনহাজুর রহমান আরফিন নামে তাদের আট মাসের এক পুত্র সন্তান রয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর বিকেলে বুশরা তার সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়ি যান। এরপর তিনি স্বামীর বাড়িতে ফিরে না আসায় গত ১৫ অক্টোবর হাফিজুর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন।
মামলায় তিনি উল্লেখ করেন যে, তার শাশুড়ি ও শ্যালিকারা তাকে স্থায়ীভাবে শ্বশুর বাড়িতে বসবাস করার জন্য চাপ দেন। এতে তিনি রাজি না হলে বুশরা ও তার সন্তানকে আটকে রাখা হয়। এ অবস্থায় স্ত্রী ও সন্তানকে উদ্ধারের জন্য তিনি আদালতের মামলা করেন।
হাফিজুর ওই এলাকার মো. নূর মিয়ার দুই ছেলে এক মেয়ের মধ্যে সবার বড়। তাকে হারিয়ে তার পরিবারে শোকের মাতম চলছে।
তার স্ত্রী বুশরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করা তার মন্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
