দ্বিতীয় অধ্যায়, সৃজনশীল ৩
১. সুরুজ নামের একজন বাংলাদেশি দীর্ঘকাল একটি দেশে প্রবাসী শ্রমিক হিসেবে চাকরি করেছেন। কদিন আগে তিনি জন্মভূমিতে ফিরে এসেছেন। তার ছেলে রাজু বাবার সঙ্গে বিদেশ নিয়ে আলাপে বসল। জিজ্ঞেস করল, ‘বাবা, আপনি যে দেশে ছিলেনসেখানে মানুষের জীবনযাপন কেমন ছিল?’ বাবা উত্তর করলেন, ‘খুব ভালো। কারণ সেখানে আইনকানুনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা আছে। দেশের প্রতিটি স্তরে আইনের ব্যবহার আছে। সে আইনে সব মানুষকেই সমানভাবে বিচার করা হয়। ফলে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা, তাদের সমভাবে রক্ষা করা হয়। সংবিধান ও জাতিসংঘের ঘোষিত মৌলিক মানবাধিকার রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে চেষ্টা করেন তারা। সাধারণ মানুষও যাতে দেশের আইনগুলো জানতে পারেন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় আইনি ধারা ও দ-গুলো লেখা থাকে। এই দেশে আইনে মেনে চলা প্রতিটি নর-নারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।’
ক. বিশ্বখ্যাত, প্রাচীনতম ‘ইলিয়াড’ ও ‘ওডিসি’ মহাকাব্যের রচয়িতা কোন মহাকবি?
খ. গ্রিসের প্রাচীন সামরিক নগররাষ্ট্র ‘স্পার্টা’র বর্ণনা দাও। গ. বাবা ছেলেসুরুজ ও রাজুর আলোচনার দেশটির আইন ও জীবন প্রাচীন কোন সভ্যতায় আছে?
ঘ. তুমি কি মনে করোপ্রাচীন সভ্যতার সেই দেশটির আইনকানুনের ওপর আধুনিক বিশ্বব্যবস্থা নির্ভর করে?
উত্তর
ক. গ্রিসের মহাকবি ‘হোমার’।
খ. প্রাচীন গ্রিসের অন্যতম নগর রাষ্ট্র ‘স্পার্টা’ সমরতন্ত্রে প্রভাবিত ছিল। শাসকগোষ্ঠী জনগণকে শেষ পর্যন্ত ভূমিদাসে পরিণত করেছিলেন। ভালোভাবে বেঁচে থাকার জন্য তারা স্বাভাবিকভাবেই বিদ্রোহ করতেন। তাদের দমন, আশপাশের নগররাষ্ট্র ও অঞ্চলগুলোকে দখল করাই শাসকদের অন্যতম কাজ হয়ে পড়েছিল। এজন্য তখন শাসকরা নাগরিকদের যোদ্ধা বানাতেন। সামরিক দিকে প্রধান গুরুত্ব দেওয়ায় দেশটির বাকি সব প্রয়োজনীয়তা অবহেলিত হয়ে পড়েছিল। স্পার্টার পতনের এগুলো অন্যতম কারণ।
গ. প্রথম উদ্দীপকের আলোচনায় যে দেশের আলোচনা করা হয়েছে, সেটির সঙ্গে রোমান সভ্যতার দেশগুলোর মিল আছে। প্রাচীনকালে এই নগর সভ্যতাগুলো স্বাভাবিকভাবে ইতালির তিবার নদীর তীরে গড়ে উঠেছিল। বিশে^র বিখ্যাত নদী তীরবর্তী সভ্যতাগুলোর মধ্যে স্মরণীয় হয়ে আছে ‘রোমান সভ্যতা’। দেশগুলো তাদের আরও নানা অবদানের জন্য আজও বারবার ফিরে আসে। রোমান সভ্যতায় আইনকানুনের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ছিল। প্রতিটি স্তরে আইনের ব্যবহার ছিল। আইনে সব মানুষকেই সমানভাবে বিচার করা হতো। ফলে প্রতিটি নাগরিকের জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা, তাদের সমভাবে রক্ষা করা হতো। সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে সাধারণ মানুষও যাতে দেশের আইনগুলো জানতে পারেন, সেজন্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় আইনি ধারা ও দ-গুলো লেখা থাকত। আইন মেনে চলা প্রতিটি নর-নারীর জন্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।
ঘ. মানুষের সভ্যতার ইতিহাসে রোমানদের সর্বশ্রেষ্ঠ ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে বিবেচনা করা হয়‘আইন প্রণয়ন’। আজও তাদের আইনগুলোর ওপর আধুনিক বিশ^ব্যবস্থা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নির্ভর করে চলেছে। এই সভ্যতার জন্মদাতা ও প্রধান নগররাষ্ট্র ‘রোম’। সেখান থেকে খ্রিস্টজন্মের ৮শ বছর আগে নগর সভ্যতাটির বিকাশ শুরু হয়। পশ্চিমে ধারাবাহিকভাবে বিশাল রোমান সাম্রাজ্য তৈরি হয়। রোমান সভ্যতার পতন ঘটে খ্রিস্টজন্মের ৫শ বছর পরে। রোমানদের আইনি নীতিমালাগুলো আধুনিক বিশ্বের আইনগুলোর মূলনীতি হিসেবে গ্রহণ করা হয়। তাদের আইনগুলোর বৈশিষ্ট্যগুলো আজকের বিশ্বে সমভাবে অনুসরণীয়। রোমানদের সভ্যতাগুলোতে আইন সবার জন্য সমান ছিল। আধুনিক বিশ্বে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মূলনীতিও তাই। তাদের আইনগুলো মানুষের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা দিয়েছে, সব মানুষের মৌলিক অধিকারগুলোকে প্রতিষ্ঠা করেছে। আজকের বিশ্বেও সবার জন্য আইন মান্য করা বাধ্যতামূলক। বিশ^খ্যাত আইনবিদরাও বলেছেন, প্রাচীন রোমান সভ্যতার আইনগুলো আজকের বিশে^ এতটাই কার্যকর যে, কোনো দেশ সেগুলো অমান্য করলে সেখানে নৈরাজ্য ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে।
