চাঁদপুরে আ.লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে আহত ২০

আপডেট : ১৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৪২ এএম

বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজিত প্রতিবাদ সমাবেশে দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১২২ রাউন্ড গুলি নিক্ষেপ করেছে। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার হাজীগঞ্জ পশ্চিম বাজার এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, কুষ্টিয়ায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাস্কর্য ভাঙার প্রতিবাদে হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ প্রতিবাদ সমাবেশের আয়োজন করে। সভায় জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নাছির উদ্দিন আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক আবু নঈম পাটওয়ারী দুলালসহ জেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বিকেলে সমাবেশ শুরুর আগে আওয়ামী লীগের অন্য একটি গ্রুপ সেখানে হামলা চালিয়ে সমাবেশের মঞ্চ ভাঙচুর ও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনার পর উভয়পক্ষ দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।

নিজেদের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় হাজীগঞ্জ থানা পুলিশের সঙ্গে জেলা থেকে আসা দুই প্লাটুন পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একটি টিম উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে।

হাজীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গাজী মোহাম্মদ মাঈনুদ্দিন বলেন, আমরা বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করি। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু উচ্ছৃঙ্খল নেতাকর্মী সমাবেশস্থলে হামলা চালিয়ে স্টেজ ভাঙচুর করে। সে সঙ্গে পৌর ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়। হামলায় বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছে।

হাজীগঞ্জ পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাছান রাব্বি দাবি করে বলেন, স্টেজে হাজীগঞ্জ-শাহরাস্তি গণমানুষের নেতা এবং আমাদের অভিভাবক মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তম এমপির ছবি না থাকায় এবং বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের নিয়ে সমাবেশের আয়োজন করায় সংঘর্ষের ঘটনায় ঘটে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হাজীগঞ্জ-ফরিদগঞ্জ সার্কেল) মো. আফজাল হোসেন বলেন, দুই গ্রুপ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১২২ রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ার শেল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় উভয় গ্রুপের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। আহতদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলসহ হাজীগঞ্জ বাজার এলাকায় পুলিশের নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত