ভারতের কাছে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক বাংলাদেশের মতো এতটা গুরুত্বপূর্ণ নয় বলে জানিয়েছেন ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে ভারত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে এ মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভার্চুয়াল শীর্ষ সম্মেলনের পর তিনি কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে কথা বলেন।
বিক্রম দোরাইস্বামী জানান, দিল্লির কাছে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্ক যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ, সে বার্তাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিয়েছেন।
দুই শীর্ষ নেতার আলোচনায় ঋণ চুক্তির বাস্তবায়ন বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ঋণ চুক্তির আওতায় সারা বিশ্বে ভারত যে অর্থায়ন করে তার ৩০ শতাংশ দেওয়া হয় বাংলাদেশকে। যে শর্তে বাংলাদেশকে টাকা দেওয়া, বিশ্বের আর কোনো দেশ এই সুবিধা পায় না। আমরা মনে করি, জাপান ছাড়া আর কোনো দেশ বাংলাদেশকে এতটা সহজ শর্তে ঋণ দেয় না। প্রক্রিয়াগত কিছু সমস্যা রয়েছে। আমাদের কাছে প্রকল্প চূড়ান্ত করে দেওয়ার আগে তো আমাদের পক্ষে অর্থায়ন করা সম্ভব নয়। দুই পক্ষই প্রক্রিয়া দ্রুততর করতে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী কয়েক মাসে এতে গতি আসবে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরকে কেন্দ্র করে প্রকল্প বাস্তবায়ন দ্রুত হবে।’
করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমরা ঘোষণা না দিলেও কয়েক মাস ধরে নীরবে বাংলাদেশের পাশাপাশি নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও মরিশাসের সঙ্গে নিজেদের সবচেয়ে ভালো অভিজ্ঞতার চর্চা নিয়ে আলোচনা করে চলেছি। এটা মনে করার কারণ নেই, সব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা আছে। রোগটা নতুন। কাজেই ভ্যাকসিনের সর্বোচ্চ সদ্ব্যবহার কীভাবে হতে পারে, এর সংরক্ষণের উপায়গুলো কী কী, প্রশিক্ষণ ইত্যাদি বিষয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে আমাদের কাজ চলছে। গত কয়েক মাসে এ নিয়ে আমাদের মধ্যে কৌশলগত আলোচনা চলছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে যেকোনো সহায়তা চাইলে আমরা হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি আছি। শুধু এখানকার টিকা উৎপাদন পরিস্থিতির গুণগত উন্নতি সাধনই নয়, ভারতের প্রতিষ্ঠানগুলোকে এখানে এসে যৌথভাবে উৎপাদনের ব্যাপারে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো আগ্রহী থাকলে এ ক্ষেত্রেও আমরা সহযোগিতা দিতে রাজি আছি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে ভারতের ভূমিকা নিয়ে জানতে চাইলে বিক্রম দোরাইস্বামী বলেন, ‘রাখাইন থেকে বাংলাদেশে বিতাড়িত লোকজনের তাদের আদি নিবাসে ফিরে যাওয়ার লক্ষ্যে সহায়ক পরিবেশ তৈরি নিশ্চিত করতে হলে সেখানে উন্নয়ন সহায়তা জরুরি। আমরা সেটাই করছি। শুধু আমরা নই, অন্যরাও তা করছে। জাপান করছে, আসিয়ানের সদস্য দেশগুলোও তা করছে। আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে সেখানে এমন একটি পরিবেশ তৈরি করা, যাতে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত দূর হয়। আমরা বুঝি এটি মিয়ানমারের একটি জটিল সামাজিক সমস্যা। আমরা একদিকে সেখানকার পরিবেশের উন্নতিতে সহায়তা করতে চাই। অন্যদিকে, জাতিসংঘের সহায়তায় বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে প্রত্যাবাসনের জন্য যে প্রক্রিয়া রয়েছে, তাতে আমাদের সমর্থন রয়েছে। যদিও এ প্রক্রিয়ায় আমাদের কোনো ভূমিকা নেই। আমরা চাই দ্রুত, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনের লক্ষ্য পূরণ হোক। আমরা চাই প্রত্যাবাসনটা টেকসই হবে, যাতে করে তারা আবার বাংলাদেশে ফিরে আসবে না।’
ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের বিষয়ে ভারতের শীর্ষ কূটনীতিক বলেন, ‘মিয়ানমারের বিতাড়িত লোকজনের জন্য যে সুবিধা তৈরি করা হয়েছে সেখানে তাদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের দিক থেকে যুক্তিসংগত। ভাসানচরের ছবি দেখে মনে হয়েছে নৌবাহিনী অসাধারণ অবকাঠামো তৈরি করেছে। কাজেই সুযোগ-সুবিধা যেখানে ভালো, শিবিরে রাখার চেয়ে তাদের লোকজনকে সেখানে সরিয়ে নেওয়াই তো তুলনামূলকভাবে ভালো।’ তিস্তা বাদে অন্য অভিন্ন নদীর চুক্তি প্রসঙ্গে বলেন, ‘দুই দেশের স্বার্থেই আমি আশাবাদী যে কয়েক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের আগে এ নিয়ে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে।’
