বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। কারণ স্বাধীনতা প্রিয় জনগন তখন এই ঘোষণার জন্য অপেক্ষায় ছিলেন। সে জন্য জিয়া এ দেশের কোটি জনতার আত্মার আত্মীয়। তখন কিন্তু কেউ এ নিয়ে প্রশ্ন করেনি।’
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি মিলনায়তনে কৃষক দলের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব বলেন।
গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস থেকে জিয়াউর রহমানের নাম মুছে ফেলা যাবে না। সত্যকে স্বীকার করার জন্য সৎ সাহসের প্রয়োজন, যেটা আওয়ামী লীগের নেই। জিয়াউর রহমান যখন স্বাধীনতার ডাক দিয়েছেন, তখন আওয়ামী লীগের নেতারা সবাই বিনা প্রতিবাদে, বিনা প্রশ্নে তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। কেন তাকে তখন প্রশ্ন করেননি আপনি কে?’
তিনি বলেন, ‘কাউকে নায়ক কিংবা মহানায়ক বানানো যায়, ভালো চলচ্চিত্রকার হলে সেটাকে একটা ছবি আকারে পর্দায় ঠেকানো যায়, সেই নায়কের কর্মকাণ্ড দেখে মানুষ আবেগ আপ্লুত হয়, চোখে জলও ফেলে কিন্তু সেটা গল্প, সেটা তো নাটক, সেটা সিনেমা। সেটা তো ইতিহাস না। হিস্ট্রি অলওয়েজ ফ্যাক্ট। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা, তার আবির্ভাব, তার কর্মকাণ্ড প্রতিটি ফ্যাক্ট, গল্প না। সেই কারণে তিনি একটি ইতিহাস। এই ইতিহাস মুছে ফেলা যাবে না।’
সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘জোর করে ক্ষমতায় বসে থাকা অবৈধ সরকারকে হঠাতে হবে, প্রতিদিন আমরা ওয়াদা করি। প্রতিদিন প্রতিশ্রুতি নিই দলের ভেতরে বিভেদ চলবে না, ‘সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। কিন্তু এখান থেকে বের হয়ে দোকানে বসে কারে সাইজ করতে হবে, তা নিয়ে আমরা আলাপ-আলোচনা করি। এমনটা হলে আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারব না। তাই আগে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হতে পারলেই আমরা আন্দোলনে সফল হব।’
তিনি বলেন, ‘জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হয়, দেশ থাকবে, দেশের সার্বভৌমত্ব থাকবে। জাতি যদি ঐক্যবদ্ধ হয় গণতন্ত্র অবশ্যই ফিরে আসবে। গণতন্ত্র যদি নিশ্চিত করতে পারি শুধু খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান কেন দেশের ১৮ কোটি মানুষই মুক্তি পাবে, দেশেই থাকবে, দেশেই আসবে, স্বাধীনভাবে চলবে, জনগণের পাশে থাকবে।’
সভাপতির বক্তব্যে কৃষক দলের আহ্বায়ক বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ‘কেউ যদি মনে করেন নির্বাচন করে এই সরকার পরিবর্তন করবেন তা সম্ভব নয়। কারণ নির্বাচনী ব্যবস্থাকেই তো এই সরকার শেষ করে দিয়েছে। তাই বলব, রাস্তায় নামা ছাড়া সরকার পরিবর্তনে অন্য কোনো বিকল্প নেই। আমাদের সেজন্য সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিতে হবে।’
কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এসকে সাদীর পরিচালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য দেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকন, কৃষক দলের সদস্য সচিব হাসান জাফির তুহিন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, উলামা দলের আহবায়ক অধ্যক্ষ শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিমসহ কৃষক দলের আহ্বায়ক কমিটির নেতারা।
