ছাইয়ের স্তূপ থেকে বেরোল রোমানদের খাদ্যপ্রেম

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:১৩ এএম

ভিসুভিয়াসের লাভার স্তূপে চাপা পড়া ইতালির পম্পেই শহরের বাসিন্দারাও এখনকার সময়ের মতো ফাস্ট ফুড খেত। শহরের রাস্তার পাশে ছিল সেই ফাস্ট ফুডের দোকান। এখনকার খাবারের দোকানগুলোর মতোই সেগুলো সজ্জিত ছিল নানা নকশায়। বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, অতিসম্প্রতি এক খননে উঠে এসেছে ছাইচাপা পড়া একটি ফাস্ট ফুডের দোকান। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই দোকান থেকে প্রাচীন রোমানদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া গেছে।

এএফপিতে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, দোকানের স্ন্যাক্সের কাউন্টারটি পলিক্রম নকশায় (বিভিন্ন রঙের ইট দিয়ে সাজানো নকশা) সজ্জিত। আগ্নেয়গিরির ছাইয়ে ঢাকা ছিল এই দোকান। গত বছর প্রতœতাত্ত্বিকেরা এর আংশিক খুঁড়ে বের করেন।

ফাস্ট ফুডের ওই দোকানগুলোকে বলা হতো ‘থার্মোপোলিয়াম’। গ্রিক শব্দ ‘থার্মোর’ অর্থ গরম আর ‘পোলেও’ শব্দের অর্থ বিক্রি। অর্থাৎ গরম জিনিস বিক্রির জায়গা থার্মোপোলিয়াম। প্রতœতাত্ত্বিকদের দল ফাস্ট ফুডের ওই দোকানে হাঁস, শূকর, ছাগলের হাড়ের টুকরো খুঁজে পেয়েছে। মাটির পাত্রে পেয়েছে মাছ ও শামুক। এগুলোর মধ্যে কিছু উপাদান রোমান যুগের খাবার ‘পেলার’ মতো একসঙ্গে রান্না করা হয়েছিল।

একটি জারের তলায় গুঁড়ো করে রাখা মটরশুঁটি পাওয়া গেছে। ওয়াইনের স্বাদ বাড়াতে এগুলো ব্যবহৃত হতো।

পম্পেইয়ের প্রতœতাত্ত্বিক পার্কের মহাপরিচালক মাসিমো ওসানা রোমের এএনএসএ সংবাদ সংস্থাকে জানান, দোকানটি খুব তড়িঘড়ি করে বন্ধ করা হয়েছিল। সম্ভবত অগ্ন্যুৎপাতের প্রথম দিকে এটি বন্ধ করা হয়।

ফাস্ট ফুডের দোকানটির কাছে একটি ঝরনা পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ৫০ বছরের এক ব্যক্তির দেহাবশেষ ও শিশুর বিছানা পাওয়া গেছে। ওসানা এএনএসএ সংবাদ সংস্থাকে বলেন, সম্ভবত দোকানের পেছনে বয়স্ক কোনো ব্যক্তি বসবাস করতেন। অগ্ন্যুৎপাত শুরুর পর তিনি মারা যান।

প্রত্নতাত্ত্বিকেরা বুনো হাঁস, পোষা মোরগের প্রতিকৃতি আবিষ্কার করেছেন। ধারণা করা হয়, ওয়াইন অথবা গরম পানীয়র সঙ্গে এগুলোর মাংস দিয়ে তৈরি খাবার পরিবেশন করা হতো।

৭৯ খ্রিস্টাব্দে ভিসুভিয়াস পর্বতের আগ্নেয়গিরির উত্তপ্ত লাভার নিচে চাপা পড়ে পম্পেই নগরী। এতে ২ হাজার থেকে ১৫ হাজার মানুষ মারা যায়। প্রতœতাত্ত্বিকেরা ওই এলাকায় আবিষ্কারকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত