এখানে বাংলাদেশি সন্ত্রাসীদের আস্তানা নেই: মিজোরাম পুলিশ

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২০, ০৪:০৬ পিএম

ভারতের মিজোরাম রাজ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামের ‘সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী কোনো সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর ঘাঁটির’ অস্তিত্ব থাকার কথা অস্বীকার করেছে মিজোরাম পুলিশ।

ভারতের গুয়াহাটিতে দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫১তম সীমান্ত সম্মেলনে সন্ত্রাসীদের আস্তানা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ প্রকাশের পর মিজোরাম আনুষ্ঠানিকভাবে এমন দাবি করল।

ভারতের গুয়াহাটি-ভিত্তিক উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সংবাদমাধ্যম নর্থইস্টনাও-তে বৃহস্পতিবার মিজোরাম পুলিশের উপ-মহাপরিদর্শক (নর্থ রেঞ্জ) লালবিয়াকথঙ্গ খিয়াংতের বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

খিয়াংতে বলছেন, ‘এখানে কোনো বাংলাদেশি বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আস্তানার অস্তিত্ব নেই।’

‘অভিযোগ আসার পর আমরা তদন্ত এবং অনুসন্ধান করেছি। কিন্তু কোনো আস্তানা পাওয়া যায়নি,’ মন্তব্য করে খিয়াংতে  বলেন, ‘এই প্রথম নয়। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় প্রতি বছর এমন অভিযোগ করা হয়।’

মিজোরামকে তিনি জঙ্গিমুক্ত রাজ্য হিসেবেও দাবি করেন।

বাংলাদেশ যা বলছে: বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল সাফিনুল ইসলাম গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত দুই দেশের সীমান্ত রক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক পর্যায়ের ৫১তম সীমান্ত সম্মেলনে বাংলাদেশের উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন।

সম্মেলন শেষে গত শুক্রবার বিজিবির পক্ষ থেকে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বিজিবি মহাপরিচালক ভারতের মিজোরাম রাজ্যের অভ্যন্তরে বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সশস্ত্র আঞ্চলিক বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আস্তানার উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং এই আস্তানাগুলো ধ্বংস করার জন্য অনুরোধ করেন।’

‘‘সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারত সরকারের ‘জিরো টলারেন্স নীতির’ কথা উল্লেখ করে বিএসএফ মহাপরিচালক ওই সব আস্তানার (যদি থাকে) বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।”

গত ২২ ডিসেম্বর গুয়াহাটিতে শুরু হওয়া এবারের সীমান্ত সম্মেলনে ১১ সদস্যের বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বিজিবি মহাপরিচালক। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও ছিলেন এই দলে।

অন্যদিকে বিএসএফ মহাপরিচালক রাকেশ আস্তানার নেতৃত্বে ভারতের ১২ সদস্যের প্রতিনিধি দল এ সম্মেলনে অংশ নেয়।

যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, সীমান্তে জনসচেতনতা কর্মসূচি জোরদার, দুর্গম অঞ্চলে যথাযথ আর্থসামাজিক উন্নয়নমূলক কর্মসূচি গ্রহণ, চোরাকারবারিদের ব্যাপারে যৌথ অভিযান পরিচালনাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সম্মেলনে দুই পক্ষ একমত হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত