ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি ও সংসদ সদস্য রাশেদ খান মেনন বলেছেন, ‘দেশে করোনাকালে ৪০ ভাগ মানুষ দারিদ্রের প্রান্তসীমায় চলে গেছে। অথচ ১১ দশমিক চার শতাংশ ধনী বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অসমতা মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ঘোষণাকে অসার প্রমাণিত করেছে। ’
শুক্রবার ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর কমিটির সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
পরে বিকেলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব জানানো হয়।
রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘করোনাকালে যেখানে চল্লিশ ভাগ মানুষ দারিদ্র্যের প্রান্তসীমায় চলে গেছে সেখানে বাংলাদেশে ধনী বৃদ্ধি পেয়েছে ১১ দশমিক চার শতাংশ হারে। এই অসমতা মুক্তিযুদ্ধের সামাজিক ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা ও সমতার ঘোষণাকে অসার প্রমাণিত করেছে। সরকার এই ক্রমবর্ধমান বৈষম্যের কথা স্বীকার না করলেও, এই বাস্তবতা দেশকে এক বিপদজ্জনক পর্যায়ে নিয়ে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘এই করোনাকালেও খুন, রাহাজানি, ধর্ষণসহ অপরাধের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাতে এখনই রাশ টেনে ধরতে না পারলে দেশের সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যাবে না। সমস্ত দেশ নৈরাজ্যের গহ্বরে পতিত হবে। উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নেয়ার পাশাপাশি অসমতা দূর করতে সরকারের অর্থনৈতিক নীতির পরিবর্তন করতে হবে। নয়াউদার নীতিবাদী অর্থনৈতিক নীতি থেকে সাম্য-বিধানের নীতিতে ফেরত আসতে হবে।’
মেনন বলেন, ‘করোনা সংক্রমণের হার কমলেও, ভ্যাকসিন নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর হয়নি। এ নিয়ে একেক ব্যক্তি একেক কথা বলায় বিভ্রান্তি বাড়ছে। নিজ দেশে ভ্যাকসিন নিয়ে ট্রায়ালে বাধা সৃষ্টি করা, নিজ দেশের উদ্ভাবনকে সহায়তা না করা ও সর্বোপরি মহল বিশেষের ব্যবসায়িক স্বার্থকে জনস্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেওয়া এর কারণ। কেবল করোনা মোকাবিলাই নয়, জনগণের সামগ্রিক স্বাস্থ্যসেবার স্বার্থে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে দুর্নীতি, লুটপাট ও অব্যবস্থা থেকে বের করে ঢেলে সাজাতে হবে।’
ওয়ার্কার্স পার্টির ঢাকা মহানগর সভাপতি কমরেড আবুল হোসাইনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় ঢাকা মহানগরের রিপোর্ট তুলে ধরেন সাধারণ সম্পাদক কমরেড কিশোর রায়।
সভায় বক্তব্য রাখেন কমরেড জাহাঙ্গীর আলম ফজলু, মো. তৌহিদ, আনোয়ারুল ইসলাম টিপু, সাদাকাত হোসেন খান বাবুল, শাহানা ফেরদৌসী লাকী, মুর্শিদা আখতার, শিউলি সিকদার, তাপস কুমার রায় প্রমুখ।
সভা থেকে স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে ওয়ার্কার্স পার্টির উদ্যোগে ঢাকায় ২৭ মার্চ লাল পতাকা মিছিল করার সিদ্ধান্ত হয়। শিখা চিরন্তনে পুষ্পমাল্য অর্পণের মাধ্যমে মিছিল শুরু হয়ে শাপলা চত্বরে শেষ হবে।
