আদিবাসী নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতনের মামলায় গ্রেপ্তার নেই

আপডেট : ১২ জানুয়ারি ২০২১, ০৫:৪০ পিএম

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলায় চোর সন্দেহে বর্মন সম্প্রদায়ের এক আদিবাসী নারীকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগে থানায় মামলা করার আড়াই দিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

রোববার রাতে নির্যাতনের শিকার ওই নারী (৩৫) বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করেন।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ওই নারীর দুই ছেলে ও এক মেয়ে। আসামিদের সন্তানদের সঙ্গে তার ছোট ছেলে খেলা করত এবং ঘুড়ি ওড়াত। ঘটনার ১৫ দিন আগে তার ছেলে ১ নম্বর আসামি মনিরুল ইসলাম ভূইয়ার বাড়ি থেকে ঘুড়ি বানানোর জন্য পত্রিকা নিয়ে আসে এবং তার সন্তানদের সঙ্গে ঘুড়ি ওড়ায়। হঠাৎ মনিরুলের বাড়ি থেকে স্বর্ণ ও টাকা-পয়সাসহ মূল্যবান কাগজ চুরি যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে ৩ জানুয়ারি ওই নারীর ছোট ছেলেকে তারা ধরে নিয়ে মারধর করে এবং মালামাল চুরি করে তার মায়ের কাছে জমা দিয়েছে এ কথা বলতে বাধ্য করে। তা না হলে তার মাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় তারা। এরপর ৯ জানুয়ারি মামলার ৪ এবং ৫ নম্বর আসামি ওই নারীর বাড়িতে প্রবেশ করে তাকে অকথ্য ভাষায় গালি দেয়।

অভিযোগে আরো বলা হয়, ওই নারীকে বাড়ি থেকে ধরে এনে করিম ভূইয়া বাগানে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে এবং পাঁচ আসামি এলোপাতাড়ি লাঠি দিয়ে মারধর করেন। পরে স্থানীয়রা উদ্ধার করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে তিনি প্রাথমিক চিকিৎসা দেন। মামলা করার পর ওই নারী তার পরিবারকে আসামিরা হুমকি দিচ্ছে বলে তিনি জানান।

মামলার আসামিরা হলেন মনিরুল ইসলাম ভূইয়া (৮০), তার দুই ছেলে মোস্তফা ভূইয়া (৪৫) ও সজিব ভূইয়া (৪০), মনিরুলের দুই মেয়ে মোছা. খুকি (৩৭), সুমি আক্তার (৩২)।

মামলার দুই নম্বর আসামি মোস্তফা ভূইয়া সাংবাদিকদের বলেন, আমার ছোট বোনের গয়না চুরি করে ওই নারীর ছোট ছেলে। সে চুরি করা গয়না তার মায়ের কাছে জমা দেয়। বারবার চাইলেও তারা দেয় না। তাই আমার ছোট বোন তাকে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। আমরা কিছু জানি না।

প্রত্যক্ষদর্শী মহানন্দ চন্দ্র বর্মন বলেন, সন্ধ্যা থেকে প্রায় চার ঘণ্টা ওই নারীকে বেঁধে রাখা হয়। পাশেই তার ছয় মাসের শিশু কান্না করছিল। বাচ্চাটাকে তারা তার মায়ের বুকের দুধও খেতে দেয়নি। তিনি জানান, পরে দুই বন্ধুর সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করি। এখন পর্যন্ত তিনি আমার বাড়িতে আছেন। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত পুলিশ এই মামলার কোন আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের সাগরদিঘি ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক স্বপন বর্মন এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তি দাবি করেন।

বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং বলেন, এটি অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘন। সাধারণত গরিব মানুষ, অসহায়, আদিবাসী হলে তারা খুব অসহায় থাকে। সমাজের ধনী মানুষগুলো তাদের ওপর জুলুম-অত্যাচার করে নোংরা আনন্দ পায়। যারা আইন হাতে তুলে নিয়েছে তাদের খুব দ্রুত গ্রেপ্তার করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানাই।

ঘাটাইল থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মো. ছাইফুল ইসলাম বলেন মঙ্গলবার বিকেল ৪টার দিকে বলেন, আসামিরা পলাতক।তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে। আশা করছি খুব তাড়াতাড়ি আসামিদের গ্রেপ্তার করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত