সাবেক এমপি ও বিএনপি নেতা শেখ সুজাত মিয়াকে প্রধান আসামি করে অর্ধশতাধিক লোকের বিরুদ্ধে নবীগঞ্জ থানায় বিস্ফোরক আইনে মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশ মকবুল হোসেন চৌধুরী (৩০) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে নবীগঞ্জে র্যালি-পরবর্তী নতুন বাজার মোড়ে আয়োজিত পথসভা শেষে পেট্রলবোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় সোমবার এ মামলাটি করেছেন নবীগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি শাহ ফয়ছল তালুকদার।
পুলিশ ও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, নবীগঞ্জ পৌরসভা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে গত রবিবার বিকেলে শহরের নতুন বাজার মোড়ে র্যালি-পরবর্তী পথসভার পর নতুন বাজার গোল চত্বর মোড়ে বিকট শব্দে একটি পেট্রলবোমার বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণে পৌর এলাকার সালামতপুর গ্রামের ছমির মিয়ার ছেলে নজির মিয়া (৩৬), দেবপাড়া ইউনিয়নের ভানুদেব গ্রামের ফিরোজ মিয়ার ছেলে শিপন আহমদ (২২) ও প্রজাতপুর গ্রামের হুসেইন মিয়ার ছেলে তারেক আহমদ (২৪) আহত হন।
তাদের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অবিস্ফোরিত একটি পেট্রলবোমা জব্দ ও বিস্ফোরিত বোমার আলামত উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়া ১৭ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার ব্যাপারে নবীগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনের বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী ও বর্তমান মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, পেট্রলবোমা বিস্ফোরণের বিষয়টি সম্পূর্ণ কাল্পনিক এবং সাজানো, পৌর নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে অস্থিতিশীল করতে এমন ঘটনা সাজানো হয়েছে। তিনি মামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
এ ব্যাপারে নবীগঞ্জ থানার ওসি আজিজুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নবীগঞ্জ থানায় মামলা হয়েছে। পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের প্রেপ্তার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক। সুষ্ঠু নির্বাচন সম্পন্ন করতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচনকে কোনো অপশক্তি প্রভাবিত করতে পারবে না।
