মার্কিন সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্যাপিটলে হামলা ছিল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস এবং সংবিধানের ওপর সরাসরি হামলা এবং সেনাবাহিনী দেশের সংবিধান রক্ষায় সবসময় প্রস্তুত।
বিবিসি জানায়, সবসময় রাজনীতি এড়িয়ে চলা মার্কিন সামরিক বাহিনীর এ বিবৃতিকে বিরল ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
গত সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ক্যাপিটল ভবনে হামলার সঙ্গে বেশ কয়েকজন সাবেক এবং কর্মরত সেনা সদস্য জড়িত থাকার অভিযোগ উঠায় চাপের মুখে পড়ে সেনা নেতৃত্ব।
ক্যাপিটলে হামলার এক সপ্তাহ পর মঙ্গলবার ওই ঘটনা নিয়ে স্থল, নৌ এবং বিমান বাহিনীসহ মার্কিন সামরিক বাহিনীর সব শাখার শীর্ষ কমান্ডাররা যৌথভাবে সব সেনা সদস্যদের প্রতি এক বার্তা পাঠিয়েছেন।
যৌথ বাহিনীর চেয়ারম্যান জেনারেল মার্ক মিলিসহ সাতজন শীর্ষ জেনারেল এবং একজন অ্যাডমিরালের সই করা ওই বার্তা বা বিবৃতিটি সৈনিকদের উদ্দেশ্যে দেওয়া হলেও মার্কিন মিডিয়া তা প্রকাশ করেছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওয়াশিংটন ডিসিতে ৬ জানুয়ারির সহিংস দাঙ্গা যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস, ক্যাপিটল ভবন এবং আমাদের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি হামলা। মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং জমায়েতের অধিকার কাউকে সহিংসতা, দেশদ্রোহিতা এবং বিদ্রোহের অধিকার দেয় না।
সামরিক নেতৃত্ববৃন্দ সেনা সদস্যদের উদ্দেশে বলেন, ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন এবং তিনি সেনাবাহিনীর নতুন কমান্ডার-ইন-চিফ হবেন। সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টির কোনো চেষ্টা আমাদের (সেনাবাহিনীর) মূল্যবোধ, রীতি এবং শপথের খেলাপ, এবং বেআইনি।
মার্কিন সেনা নেতৃত্ব এমন সময় এই বার্তা দিলেন যখন এফবিআই সতর্ক করেছে যে, জো বাইডেনের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে উগ্রবাদী দক্ষিণপন্থীরা সশস্ত্র তৎপরতা চালানোর পরিকল্পনা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্লেষকেরা বলছেন, ক্যাপিটলে তাণ্ডবের ঘটনায় বেশ কজন অবসরপ্রাপ্ত এবং চাকুরিরত সেনা সদস্যের অংশগ্রহণ স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে সেনাবাহিনীর মধ্যে কট্টর ডানপন্থী ভাবধারায় বিশ্বাসী লোকজন রয়েছে, যারা বিশ্বাস করে যে নভেম্বরের নির্বাচনে কারচুপি করে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হারানো হয়েছে।
সেনাবাহিনীর মধ্যে এ ধরনের লোকজনের উপস্থিতি নতুন না হলেও, ক্যাপিটলের ঘটনায় সেনা সংশ্লিষ্ট কিছু লোকজনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণে উদ্বিগ্ন সেনা নেতৃত্ব স্পষ্ট একটি বার্তা দেওয়া জরুরি বলে মনে করেছেন।
