ভারত থেকে করোনার টিকা পেতে মুখিয়ে ছিল ব্রাজিল। টিকা নিতে মুম্বাইয়ের উদ্দেশে উড়াল দেয় একটি পণ্যবাহী প্লেনও। তবে ফ্লাইটটির গতিপথ ঘুরে যায় আমাজনের দিকে।
লাতিন আমেরিকা ভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য রিও টাইমস জানায়, ভারতে গিয়ে যে ফ্লাইটটি টিকা আনতে যাওয়ার কথা ছিল সেটি বাতিল করা হয়েছে। ফ্লাইটটির গন্তব্য এখন আমাজন অঞ্চল। সেখানে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সহযোগিতা পাঠানো হবে।
প্লেনটি শনিবার সকালে ক্যাম্পিনাসের ভেরাকোপস বিমানবন্দরে পৌঁছে। সেখান থেকে মুম্বাইয়ে উড়াল দেওয়ার কথা ছিল এটির। তবে ওই ফ্লাইট বাতিল করে এর পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ করা হয়েছে আমাজোনাসের রাজধানী মানাউসের দিকে।
অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার করোনার টিকার ভারতীয় সংস্করণ কোভিশিল্ড পেতে মুখিয়ে ছিল ব্রাজিল। এমনকি দ্রুত টিকা পাঠাতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি লিখে অনুরোধও জানান ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারো। ৮ জানুয়ারি বলসোনারোর পাঠানো সেই চিঠি নিয়ে প্রতিবেদন করে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
এরপর গত শুক্রবার ভারতের পুনে শহরের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে ২০ লাখ ডোজ টিকা নিতে একটি প্লেন পাঠানোর কথা জানায় ব্রাজিল সরকার। একবার যাত্রা বিরতিতে ১৫ ঘণ্টা উড়াল দিয়ে মুম্বাইয়ে পৌঁছানোর কথা ছিল প্লেনটির।
তবে এক ফোনালাপে ব্রাজিলের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে টিকা আর্নেস্তো আরাউজোকে এই মুহূর্তে টিকা দিতে অপারগতার কথা জানান ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে।
কূটনৈতিক সূত্রে জানা যায়, ব্রাজিলকে টিকা দিতে সম্মত আছে ভারত জানান জয়শঙ্কর। তবে ব্রাজিলে ২০ বা ২১ জানুয়ারিতে শুরু হতে যাওয়া টিকাদান কর্মসূচির জন্য এ মুহূর্তে ডোজ পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না।
ফলে ফ্লাইটটির গন্তব্য এখন আমাজন অঞ্চল বলে জানিয়েছে রিও টাইমস। করোনা সংক্রমণের চাপে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ভেঙে পড়া অঞ্চলটিতে অক্সিজেন সরবরাহ পাঠানো হবে পণ্যবাহী প্লেনটি করে।
এর আগে, ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই মুহূর্তে ভারতের টিকাদান কর্মসূচি নিয়ে ব্যস্ততা চলছে, তার প্রস্তুতি চলছে, এখনো সব জায়গায় পুরো ডোজ পৌঁছায়নি। সুতরাং এই মুহূর্তে অন্য দেশের অনুরোধ মানা সম্ভব হবে না।’
ব্রাজিল সরাসরি সেরাম থেকে করোনার টিকা কিনবে। ইতিমধ্যে তারা দামও মিটিয়ে দিয়েছে। কিন্তু দ্রুত টিকা পেতে ভারতকে তাগাদা দিয়ে আসছিল ব্রাজিল।
করোনায় মৃতের তালিকায় বিশ্বজুড়ে দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ব্রাজিল। এখন পর্যন্ত ২ লাখ ৯ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে লাতিন আমেরিকার দেশটিতে। মোট শনাক্ত হয়েছে সাড়ে ৮৪ লাখ।
ওই অঞ্চলে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হলেও এখনো পিছিয়ে আছে ব্রাজিল। ফলে এ নিয়ে চাপের মুখে পড়েছে বলসোনারো সরকার।
