পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বৃহত্তম গির্জা ‘লিসবোয়া সে’-এর ভেতরেই সন্ধান মিলেছে আইবেরিয়ান পেনিনসুলা যুগের এক মসজিদের। আলজেরীয় স্থাপত্যের এই মসজিদ এই অঞ্চলে হাজার বছর আগের মুসলিম শাসনামলের সাক্ষ্য বহন করছে।
পর্তুগিজ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন পর্তুগিজ ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ অধিদপ্তর লিসবনের গুরুত্বপূর্ণ এই চার্চে স্থাপনাটি রাখার পক্ষে নয়। বরং তা ভেঙে জাদুঘরে সংরক্ষণের নির্দেশ দেয় কর্তৃপক্ষ। সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করেছেন পর্তুগিজ প্রত্নতাত্ত্বিক, ইতিহাসবিদ ও বেশ কিছু রাজনৈতিক দল। তারা বলছেন, এই স্থাপনা ভেঙে ফেলা ঐতিহ্য ধ্বংসের মতো একটি অপরাধ বলে গণ্য হবে।
পর্তুগিজ ইতিহাসবিদ ম্যানুয়েল ফিলো বলেন, ‘ইতিহাস মানেই ইতিহাস। পর্তুগিজ ঐতিহ্যে একটি মসজিদও পর্তুগিজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এ জন্যই আমাদের মসজিদটি রক্ষা করে ঐতিহ্য সংরক্ষণ করতে হবে।’
উল্লেখ্য, ৭১১ সাল থেকে ১৪৯২ সাল পর্যন্ত তৎকালীন আইবেরিয়ান পেনিনসুলা (বর্তমান পর্তুগাল, স্পেন) অঞ্চলে প্রায় ৭০০ বছরের দীর্ঘ সময় মুসলিমরা শাসন করেন। সেই সময়ের ইউরোপে মনোমুগ্ধকর সব স্থাপত্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান, সভ্যতা ও ঐতিহ্যে ‘আন্দালুসিয়া’ বিরাট প্রভাব বিস্তার করেছিল।
