বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে সৌদি আরবে কমপক্ষে ৫৫ হাজার রোহিঙ্গা বসবাস করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইসা বিন ইউসেফ আল-দুহাইলান। তিনি বলেছেন, ‘এসব রোহিঙ্গা ঢাকা হয়ে রিয়াদ অথবা দাম্মাম হয়ে সৌদি আরবে গেছেন। পাসপোর্টের মেয়াদোত্তীর্ণ বা পাসপোর্ট হারিয়ে যাওয়ায় তাদের তালিকা বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের পাসপোর্ট থাকায় আমরা তাদের বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বিবেচনা করছি। তাদের নতুন কিংবা নবায়ন পাসপোর্ট প্রয়োজন।’
গতকাল রবিবার রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় ৩০ হাজার জনগোষ্ঠীর মধ্যে ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন ইসা বিন ইউসুফ। এ সময় বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান উপস্থিত ছিলেন।
সৌদি রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘রোহিঙ্গাদের পাসপোর্ট সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশ একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি করেছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘জানুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফরের কথা থাকলেও নতুন পরিস্থিতি বিবেচনায় তা স্থগিত করা হয়েছে। তবে শিগগিরই এ সফর হবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে ইসা বিন ইউসেফ বলেন, ‘গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে প্রত্যেক দিন দেড় হাজার ভিসা দেওয়া হচ্ছে। সর্বোচ্চ ছয় হাজার পর্যন্ত দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘বাংলাদেশি কোনো নাগরিক যদি সৌদি আরবে রোহিঙ্গা হিসেবে গিয়ে থাকেন, অবশ্যই তাকে আমরা পাসপোর্ট দেব। কিন্তু তারা যদি বাংলাদেশের পাসপোর্ট না নিয়ে যান এবং রোহিঙ্গা হন, তাহলে বিচার-বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নতুন নয়। ৫০-৬০ বছর আগেও রোহিঙ্গা এসেছে। উদার সৌদি আরব সে সময় তাদের আশ্রয় দিয়েছিল এবং তারা সবাই দেশটির নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করছেন। আমরা সব সময় বলছি রোহিঙ্গারা বাংলাদেশি নন, তারা মিয়ানমারের অধিবাসী। আমাদের নাগরিক কাউকে পাসপোর্ট দিলে অবশ্যই আমরা তা নবায়ন করব।’
