আবাসিক হল বন্ধ রেখেই অনার্স ও মাস্টার্সের চূড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহণের অনুমতি দিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) প্রশাসন। এভাবে আবাসিক হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা শুরু হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে ক্যাম্পাসের পার্শ্ববর্তী এলাকায় মেসের স্বল্পতা, খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা ও নিরাপত্তার অভাবে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন নারী শিক্ষার্থীরা। এ পরিস্থিতিতে শুধুমাত্র পরীক্ষার্থীদের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে হল খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অনেক শিক্ষকও।
ভুক্তভোগী ছাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ক্যাম্পাস খোলা অবস্থায় তাদের অধিকাংশই হলে অবস্থান করত। এদের মধ্যে অনেকেই টিউশনি করে মাসিক খরচ চালাতেন। বর্তমানে করোনা পরিস্থিতির কারণে টিউশনিহীন সময় কাটাতে হচ্ছে তাদের। এ সময় হল বন্ধ থাকায় মেসের অতিরিক্ত ভাড়া ও আনুষঙ্গিক খরচ চালানো যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগী মধুমিতা ইসলাম সুমি নামে এক শিক্ষার্থী ফেইসবুকে দেওয়া পোস্টে লিখেছেন, ‘হল বন্ধ রেখে পরীক্ষা নেওয়া দূরের স্টুডেন্টদের সঙ্গে একরকম অন্যায়। যারা আমার মতো হোস্টেলে বা হলে থাকতে অভ্যস্ত, মেসে কখনোই ছিলাম না, তাদের জন্য মেসে থাকা কাচের ছোট্ট বোতলে মাছ রাখার মতো।’
সাবেকুন নাহার নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা যারা হলে অবস্থান করে আসছিলাম তাদের জন্য মেসে থাকা কষ্টকর। এখানে সব সুযোগ-সুবিধার অভাব। টেনশনে থাকা লাগে। হলে কারেন্ট চলে গেলে কারেন্ট পাই। এখানে পরিবেশের সঙ্গে সেট হওয়া কষ্টকর এবং খরচও বেশি, যা আমাদের জন্য বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।’
হল বন্ধ রেখে পরীক্ষার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে জানতে চাইলে দেশরত্ন শেখ হাসিনা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. সেলিনা নাছরিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রশাসক হিসেবে বলব প্রশাসনের সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। তবে একজন অভিভাবক হিসেবে চাই অবশ্যই পরীক্ষার জন্য হল খুলে দেওয়া হোক। কারণ বাইরে থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকিটা আরও বেশি এবং নিরাপত্তা কম। এক্ষেত্রে হলে বাড়তি নিরাপত্তা পাওয়া যায়।’
প্রায় একই ধরনের মতপ্রকাশ করে খালেদা জিয়া হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রেবা মন্ডল বলেন, ‘আমি যতটুকু জানি মেয়েরা বাইরের মেসগুলোতে মানবেতর জীবনযাপন করছে। যে স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্য আমরা হল বন্ধ করে পরীক্ষা নিচ্ছি, সেটা আরও বাড়ছে মেসগুলোর পরিবেশের কারণে। আমি মনে করি যাদের পরীক্ষা চলছে তাদের জন্য হলগুলো খুলে দেওয়া উচিত।’ গাদাগাদি করে মেসে অবস্থানের ফলে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকির কথা জানতে চাইলে ইবি মেডিকেল সেন্টারের ভারপ্রাপ্ত প্রধান মেডিকেল অফিসার ড. এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, ‘শীতকাল বা গরমকাল বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ধরনের সিজনাল ভাইরাস ছড়ায়। এক্ষেত্রে ২-৩ জনের জায়গায় ৮-১০ জন অবস্থানের ফলে করোনাভাইরাস ছাড়াও বহুবিধ ভাইরাস ছড়াতে পারে।’
