‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সেন্টার’ ৩ বছরেও চালু হয়নি

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২১, ০১:০১ এএম

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে নির্মাণের তিন বছর পরও চালু হয়নি বিটুলি ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সেন্টার’। উপজেলার ফুলতলা ইউনিয়নের বিরইনতলা গ্রামে ২০ শতক জমির ওপর ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেন্টারটিতে রয়েছে একটি অ্যাকাডেমিক ও ডরমেটরি ভবন। কিন্তু অযতœ-অবহেলায় ভবনের ভেতর অলস পড়ে আছে আনুমানিক কোটি টাকার ৫১টি যন্ত্রপাতি ও ফার্নিচার। গত তিন বছর ধরে এগুলো পড়ে থাকার কারণে ধুলোবালি জমে গেছে। সেখানে নেই কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী। সেন্টারটি দেখভালের জন্য শুধুমাত্র একজন আউটসোর্সিং নিরাপত্তা প্রহরী রয়েছেন। ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকার ভবন ও যন্ত্রপাতির সুফল পাচ্ছেন না জনগণ। এর জন্য অবশ্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না দেওয়াকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি সেন্টারটিতে সরেজমিন ঘুরে, সংশ্লিষ্ট ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। 

এর আগে গত ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সারা দেশে ১৮টি স্থলবন্দর, ২টি টিসি পোর্ট ও ৪টি বিমানবন্দরসহ ২৪টি স্থানে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সেন্টার’ নামে একটি প্রকল্প চালু করে সরকার। এরই পরিপ্রেক্ষিতে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায়ও একটি সেন্টার স্থাপন করা হয়। এরপর ২০১৭-১৮ অর্থবছরে জুড়ী উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের কাছে সেটি হস্তান্তর করা হয়। মূলত বিদেশ থেকে আমদানি করা পশুপাখি এ সেন্টারে নির্দিষ্ট সময় রেখে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিভিন্ন সংক্রামক রোগের চিকিৎসা প্রদানের উদ্দেশ্যেই এ ধরনের সেন্টার স্থাপন করে সরকার।

সেন্টারটির দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. হাছিন আহমদ চৌধুরী জানান, প্রতিষ্ঠানটিতে মোট কত টাকার মেশিন ও রিএজেন্ট নষ্ট হচ্ছে তার হিসাব জানেন না তারা। চালু না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে যে ল্যাব রয়েছে বা পশুপাখি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার যে যন্ত্রপাতি রয়েছে সেগুলো পরিচালনা করার জন্য অদ্যাবধি জনবল নিয়োগ করা হয়নি। যদিও ৩ জন কর্মকর্তা ও ৯ জন স্টাফ নিয়োগ দেওয়ার জন্য সুপারিশ করা হয়েছিল। কিন্তু সেসব জনবল নিয়োগ না দেওয়ায় যে উদ্দেশ্য নিয়ে এটি নির্মাণ করা হয়েছিল সেটি ব্যাহত হচ্ছে।

বিটুলি সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ সেন্টারের জমিদাতা বিরইনতলা গ্রামের বাদশা মিয়া বলেন, ‘কেন যে আমি এই জমি আমি দান করেছিলাম তা বুঝে উঠতে পারিনি। নির্মাণের তিন বছর ধরে এখানে কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। সবসময়ই তালাবদ্ধ থাকে। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দেখা যায় না।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মাসুক আহমদ বলেন, ‘এটি এখনো চালুই হয়নি। তাই এ প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম কী তা আজও আমাদের বোধগম্য নয়।’

এদিকে মৌলভীবাজার শহরকে যানজট মুক্ত রাখতে শহর থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার দূরে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে পৌরসভার যুগিডর এলাকায় একটি বাস টার্মিনাল নির্মাণ করা হয়। এ ছাড়া প্রাণিবৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ এই জেলায় প্রায়ই লোকালয়ে এসে ধরা পড়ছে বন্যপ্রাণী। এসব প্রাণীকে উদ্ধার এবং সেবা দেওয়ার জন্য জেলার কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানে ২০১৩ সালে কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয় একটি রেসকিউ সেন্টার। কিন্তু জনবলের অভাবে সেবা চালু করা যায়নি এখনো।

শ্রীমঙ্গল রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোতালেব হোসেন জানান, জনবলের সংকটে এখানে রেসকিউ সেন্টারটি পুরোপুরি চাল করা যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকায় এর মালামাল নষ্ট হচ্ছে বলেও স্বীকার করেন এই কর্মকর্তা।

তা ছাড়া শ্রীমঙ্গলের সদর ইউনিয়নের জেরিন চা বাগান, ডলুছড়া, দিলবরনগর পুরান বাড়ি এলাকার সড়কের একটি ব্রিজ ২০ বছরেও জোড়া লাগেনি। স্থানীয় দিলবরনগর এলাকার বাসিন্দারা জানান, জেরিন চা বাগান, ডলুছড়া, দিলবরনগর পুরান বাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের চলাচলের জন্য ২০০০ সালে সরকারি অর্থে একটি ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। ব্রিজ নির্মাণের সময় নতুন রাস্তা তৈরি কিংবা মেরামত করা হয়নি। তারপর বিভিন্ন সময় ইউনিয়নের মেম্বার, চেয়ারম্যানকে মেরামত করে চলাচলের উপযোগী করে দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত এটি সংস্কার করা হয়নি।

এসব বিষয়ে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান বলেন, ‘কেন এভাবে পরে আছে সে ব্যাপারে খোঁজ নেব। বিস্তারিত না জেনে এ বিষয়ে মতামত দেওয়া যাচ্ছে না, তবে অবগত হলাম। শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করব।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত