করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ের আতঙ্কে খুলনা নগরীর প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে চিকিৎসা সেবা দিতে অনীহা দেখাচ্ছেন অনেক চিকিৎসক। আর সে কারণে রোগীরা পড়েছেন ভোগান্তির মুখে, বঞ্চিত হচ্ছেন চিকিৎসা সেবা থেকে। দুর্যোগ মুহূর্তে চিকিৎসকদের এমন আচরণে হতাশ হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজের অর্থোপেডিক্সের চিকিৎসক আবদুল কাদেরকে দেখাতে সিরিয়ালের জন্য দেওয়া নম্বরে শাহেদ শুভ নামে এক সেবাপ্রার্থী কল দিলে অপর প্রান্ত থেকে বলা হয়, ‘অনেক চিকিৎসক এখন হাসপাতালে আসছেন না, তাই এই মুহূর্তে কোনো সিরিয়াল নেওয়া হচ্ছে না।’ চিকিৎসক না থাকায় অনেক হাসপাতাল থেকেই রোগীদের এভাবে ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
গত রবি ও সোমবার নগরীর বিভিন্ন প্রাইভেট হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ঘুরে দেখা গেছে, রোগীদের বেশ ভিড়। তবে প্রয়োজনীয় চিকিৎসকের অভাবে রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। তাছাড়া রোগীদের সিরিয়ালের জন্য নগরীর প্রাইভেট হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোর যে নম্বর দেওয়া আছে সেগুলোর বেশির ভাগই এখন বন্ধ।
খুলনার আহসান আহমেদ রোডের লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দেখা যায় অনেক রোগী। অনেকে আল্ট্রাসনোগ্রাম করতে এসেছেন। কিন্তু ফিরতে হচ্ছে চিকিৎসক না দেখিয়ে। কর্তৃপক্ষ বলছেন, চিকিৎসক আসেননি, মুঠোফোনটিও বন্ধ।
লাইফ কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের রিসিপশনিস্ট ফাহমিদা বলেন, চিকিৎসক না আসায় রোগীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তাদের ভিজিটের টাকা ফেরত দিয়েছি।
ল্যাবকন ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ম্যানেজার আনিস বলেন, আমাদের এখানে দুজন চিকিৎসক আছেন। আল্ট্রাসনোগ্রাম করার জন্য ডা. আইস লক্ষণ কুমার ও আবু নাসের হাসপাতালের ডা. বিশ্বজিৎ বাইন। তবে তারা মাঝেমধ্যেই আসছেন না।
নগরীর স্টার ডায়াগনস্টিক হাসপাতালের চিত্র একই রকম। সেখানে সন্ধ্যার পর দেখা যায় রোগীদের ভিজিটের টাকা ফেরত দেওয়া হচ্ছে। ওই হাসপাতালে হার্টের সমস্যা নিয়ে আসা মনসুর আলী (৫০) বলেন, এসেছিলাম ডা. অলোক কুমার মণ্ডলকে দেখানোর জন্য। কিন্তু আড়াই ঘণ্টা বসে থাকার পর এখান থেকে জানানো হলো চিকিৎসক আসবেন না। টাকা ফেরত দিয়ে দিল।
নগরীর সোনাডাঙ্গা আইকন হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক নিহান বলেন, এখানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকসহ অন্যান্য তিন-চারজন চিকিৎসক আছেন। তবে (গত রবিবার) সকালে চিকিৎসকরা জানালেন, সিরিয়াল না নেওয়ার জন্য। তারা কয়েকদিন আসবেন না। চিকিৎসকের মধ্যে অনেকে বলছেন, করোনার আতঙ্কে আছেন তারা।
বৃহত্তর খুলনা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি শেখ আশরাফ-উজ-জামান বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ এখনো তেমন লাগেনি। এখন যদি চিকিৎসকরা রোগী দেখা বন্ধ করে দেন তাহলে তো বিপদ বাড়বে।
এ বিষয়ে খুলনা প্রাইভেট ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ডা. শওকত লস্কর বলেন, ‘আমাদের অ্যাসোসিয়েশন এর পক্ষ থেকে কোনো চিকিৎসক রোগীদের সেবা দেবেন না এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। চিকিৎসকদের কাজ রোগীদের সেবা দেওয়া, তা আবার বন্ধ হবে কেন?’
