মৃত্যুর মুখ থেকে বিলুপ্তপ্রায় শকুনটিকে বাঁচাল কয়েক তরুণ

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২১, ০৮:১৬ পিএম

ফরিদপুরে কয়েক তরুণের প্রচেষ্টায় মৃত্যুর মুখ থেকে বেঁচে উঠল বিলুপ্তপ্রায় এক শকুন। খাদ্যের অভাব এবং আহত হয়ে অসুস্থ ওই শকুন বুধবার সন্ধ্যা থেকে ফরিদপুর সদরের শোভারামপুর এলাকায় অবস্থান করছিল।

এলাকার তরুণদের সহায়তায় শকুনটিকে উদ্ধার করে শুক্রবার জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে বন বিভাগের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।

একাজে মুখ্য ভূমিকা পালন করে ফরিদপুর সিটি পেজ ও ফরিদপুর লাইভ গ্রুপের নামে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুক গ্রুপের অ্যাডমিন মো. এমদাদুল হাসান ও ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির অ্যাডমিন বায়োজিদ হোসেন।

ফরিদপুর সিটি পেজের অ্যাডমিন মো. এমদাদুল হাসান গণমাধ্যমকর্মীদের জানান, বৃহস্পতিবার ফরিদপুর সদরের শোভারামপুর এলাকার তরুণ পারভেজ আহমেদের মাধ্যমে আহত, অসুস্থ ও দুর্বল ওই শকুনটির সংবাদ তিনি জানতে পারেন। দুপুর ১টার দিকে তিনি ও বায়োজিদ দক্ষিণ শোভারামপুর এলাকায় গিয়ে আদিলের মসজিদের নিকট রেল সড়কের সামনে থেকে শকুনটিকে উদ্ধার করেন। তারা বাঁশের একটি খাঁচার মধ্যে শকুনটিকে ভরে ফরিদপুর প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। তিনি জানান, ওই শকুনটির দুটি পাখাসহ দৈর্ঘ্য আনুমানিক ১০ ফুট এবং আনুমানিক ওজন ১৬ কেজি হবে। গায়ের রং ধূসর।

ফরিদপুর জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা নূরুল্লাহ মো. আহসান বলেন, শকুনটির মাথার নিচে ঘাড়সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শকুনটি দারুণ অসুস্থ ছিল।

তিনি বলেন, এটি দেশি জাতীয় একটি শকুন। খাদ্যের সংকট হওয়ায় আকাশ থেকে নেমে লোকালয়ে চলে আসায় সে হয়তো জনতার আক্রমণের শিকার হয়ে আহত হয়েছে।

তিনি বলেন, শকুনটিকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। দুই/তিন দিন চিকিৎসা পেলে সুস্থ হয়ে উঠবে শকুনটি।

ফরিদপুর সাইক্লিস্ট কমিউনিটির অ্যাডমিন বায়োজিদ হোসেন বলেন, জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর শকুনটিকে শুক্রবার খাঁচাবন্দী অবস্থায় শহরতলির গঙ্গাবর্দীতে অবস্থিত ফরিদপুর বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে গিয়ে বন বিভাগের কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

জেলা বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাইদুর রহমান জানান, শকুনটিকে আপাতত একটি ঘরে রাখা হয়েছে। এর প্রয়োজনীয় খাদ্য এবং পাশাপাশি চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, শকুনটি মুক্তভাবে ছেড়ে দেওয়ার জন্য খুলনায় অবস্থিত বন বিভাগের বন্য প্রাণী ও প্রকৃতি সংরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হয়েছে। রবিবার ওই কার্যালয়ের প্রতিনিধি শকুনটি নিতে ফরিদপুর আসবেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত