পায়ের চাপ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে পবিত্র দুই মসজিদে

আপডেট : ৩১ জানুয়ারি ২০২১, ০২:৫২ এএম

ফ্লোরের নিচে পাতানো ছোট পিস্টনের ওপর হাঁটার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ধারণা নিয়ে মার্কিন পেটেন্ট অফিসে একটি প্রযুক্তি ধারণা রেজিস্ট্রেশন করেছেন দুই সৌদি গবেষক। মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদেই এই প্রযুক্তি বাস্তবায়নের সবচেয়ে যুতসই স্থান হিসেবে দেখছেন তারা।

জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্ব যখন দূষণমুক্ত জ্বালানি খুঁজছে, তখন এই উদ্ভাবন নিশ্চয়ই বিশ্বকে আনন্দিত করবে। প্রযুক্তিটির অন্যতম অংশীদার কিং আব্দুল আজিজ বিশ^বিদ্যালয়ের মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. আব্দুল হামিদ আল-খতিব জানান, ‘পেটেন্টটি নিবন্ধন করতে আমাদের বেশ কয়েক বছর সময় লেগেছে।’

আল-খতিব প্রযুক্তিটির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, ‘ফ্লোরের নিচে পাতানো ছোট ছোট পিস্টনগুলোতে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে উৎপন্ন শক্তি জরুরি ব্যাটারিতে সংগ্রহ করা হবে। বেশি মানুষ চলাচল করে এমন স্থানই এই প্রযুক্তির পক্ষে দারুণ সহায়ক।’ আল-খতিব আরও বলেন, ‘এই উদ্ভাবন প্রয়োগ করা মোটেও ব্যয় সাপেক্ষ নয়। নিচে পাতানো পিস্টনগুলোর সঙ্গে আপনি সাধারণ টাইলসই ব্যবহার করতে পারেন। আমরা সেখানে পানি, তেল বা গ্যাসের মধ্য থেকে একটি তরল পদার্থ ব্যবহার করব। পিস্টনগুলোতে যখন চাপ পড়বে, তখন বাতাস বা পানির চলাচলের মাধ্যমে তাতে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হবে।’

হাঁটা মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সবচেয়ে সাধারণ কাজ। হাঁটার সময় ভূপৃষ্ঠে পায়ের আঘাত, কম্পন ও শব্দ প্রয়োগের মাধ্যমে সে প্রচুর শক্তি হারাতে থাকে। এই শক্তিগুলো সঞ্চয় করে বিদ্যুতে পরিণত করা হবে এই প্রযুক্তিতে। আল-খতিব আরও সুনির্দিষ্ট করে বলেন, ‘এই প্রযুক্তির জন্য সবচেয়ে যুতসই স্থান হলো মক্কা-মদিনার পবিত্র দুই মসজিদ। কারণ এখানে প্রতিনিয়ত প্রচুর পরিমাণে মুসল্লি হাঁটাহাটি করেন। তাদের প্রতিদিনের ক্ষয়িত শক্তির বিদ্যুতায়ন করা গেলে মসজিদ দুটির প্রয়োজন পূর্ণ করার মতো বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব হবে।’

উল্লেখ্য, এর আগে পদচ্ছাপকে কাজে লাগিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য একটি ডিভাইস আবিষ্কার করেছিল ভারতের পরমাণুশক্তি বিভাগের রিয়েক্টর কন্ট্রোল ডিভিশন। মার্কিন সাসটেইনেবল অ্যানার্জি কোম্পানি পেভেজেনও ইতিমধ্যে এমন প্রযুক্তি ডিজাইন করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত