সমর্থন পেতে ৬০ ডেকচি খিচুড়ির আয়োজন চেয়ারম্যানের!

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৩:৫৪ পিএম

পৌর নির্বাচনের পর ঢাকার ধামরাইয়ে শুরু হয়েছে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আমেজ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন ইউনিয়নে আয়োজিত সভা ঘিরে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীরা মিছিল নিয়ে শো-ডাউন দিচ্ছেন।

স্থানীয় সাংসদ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের সামনে নিজেদের যোগ্য প্রমাণ দিতে ব্যস্ত তারা।

লাখ লাখ টাকা খরচ করে সমর্থন পেতে আয়োজন করছেন খিচুড়ি ভোজের। ডিজিটাল পোস্টার-ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছেন পুরো এলাকা। তবে একাধিক আওয়ামী দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন প্রত্যাশা করায় দ্বিধায় আছেন স্থানীয় জনগণ।

অনেকেই বলছেন, খাবার কিংবা চাটুকথায় নয়। যোগ্য প্রার্থীকেই আওয়ামী লীগ মনোনয়ন দেবেন এমন প্রত্যাশা তাদের।

শুক্রবার বিকেলে ঢাকার ধামরাই উপজেলার গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের বারবাড়ীয়া ভোলানাথ স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকী উপলক্ষে যৌথ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ।

উক্ত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য ও ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি বেনজীর আহমেদ।

সভাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, যৌথ সভাকে ঘিরে সকাল থেকেই ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের থেকে গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের সভাস্থল পর্যন্ত সড়কে বসানো হয়েছে তোরণ।

দলে দলে অন্তত ৭/৮জন প্রার্থী সমর্থকদের দিয়ে শো-ডাউন দিয়েছেন। জনসমুদ্রে পরিণত করা এসব মিছিলে অধিকাংশই শিশু-কিশোর।

তবে জনসমর্থন পেতে সবচেয়ে বড় আয়োজন করেছেন গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আব্দুল কাদের মোল্লা। কয়েক লাখ টাকা খরচ করে সভাস্থল থেকে কিছু দূরে আয়োজন করেছেন বিশাল ভূরিভোজ। এমন বিশাল ভূরিভোজের আয়োজন করেছেন আরেক মনোনয়ন প্রত্যাশী গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ মোল্লা। 

ধামরাই থানা সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম বলেন, যারা মনোনয়ন প্রত্যাশী তারা জনপ্রিয়তাটা দেখতাছে। কাদের চেয়ারম্যানের পক্ষে বারবারিয়া হাটে আমরা গতকাল থাইকা রানতাছি। আমাগো টার্গেট ৮ হাজার লোকেরে খাওয়ামু। জুম্মার নামাজের পর থাইকা অনেক মানুষ খাইছে। ১ লাখ ৭১ হাজার ট্যাকা দিয়া দুইডা বড় গরু কেনা হইছিলো। মাংস হইছে ৮ মণের উপরে।

বাবুর্চি লাভলু মিয়া বলেন, ‘৮০০ কেজি চাল, ৫০০ কেজি মাংস দিয়া ভুনা খিচুড়ি রানছি ৬০ ডেক। ৩০ জন লোক গতকাল বিকেল থাইকা আমরা রান্নাবান্নার কাম করতাছি। এখন মিছিলে আসা মানুষজনরে খাওয়াইতাছি।’

মজুরি পেয়েছেন কি না সে বিষয়ে বলেন, ‘মজুরি চেয়ারম্যান সাহেবের সাথে কনটাক্ট হয় নাই। ১০০ লোকের খাওন পাকাইলে আমরা ২ হাজার টাকা নেই।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও প্রবীণ বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, গরু দিয়া খিচুড়ি খাওয়ায় তারা মানুষ ভিড়াইছে। রানিং চেয়ারম্যান, আরেকজন আমজাদে। এত মানুষ ডাইকা নিয়া তার খরচ করাটা ঠিক হইছে? আমরা যারা অনেক দিন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করি তারা যোগ্য মানুষ মনোনয়ন পাক সেটা চাই। খিচুড়ি খাইয়া আমরা ভুলুম না। এলাকার মাইনসেও তাই চায়।’

তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ মোল্লা বলেন, ‘৫ হাজার মানুষ খাইছে। আমি গরু দিয়া খাওয়াই নাই। নয়’শ কেজি মুরগি আর চাল ছিল ৬০০ কেজি। ইনশাল্লাহ আমি মনোনয়ন পাবো। সবার সাথে আমার সম্পর্ক ভালো।’

গাঙ্গুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কাদের মোল্লা বলেন, মানুষরে দাওয়াত দিলেতো খাওয়াইতে হয়। মেয়া বিয়ে দিলে কি মানুষরে না খাওয়ায় ছাড়বো?

খরচ কত হয়েছে এমন প্রশ্নে থতমত খেয়ে তিনি বলেন, ’ওইরকম নাতো। খিচুড়ি খাওয়াইতে যা যায়।’

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত