শ্রীমঙ্গলে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন, উর্বরতা কমছে কৃষি জমির

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৬:১৪ পিএম

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার বিভিন্ন এলাকার প্রভাবশালীরা নির্বিঘ্নে ফসলি জমি নষ্ট করে ব্যাপক হারে মাটি উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার হেক্টর দুফসলি কৃষি জমি থেকে উর্বর মাটি কেটে নেয়ায় হচ্ছে। এসব ফসলি জমি থেকে অবৈধভাবে মাটি কাটার পর তা পরিবহনের জন্য পাকা ও কাঁচা সড়ক ব্যবহার করা হচ্ছে। মাটি বোঝাই ট্রাক্টর ও ট্রাক চলাচল করার কারণে রাস্তায় মাটি পড়ে তা অন্যান্য যানবাহন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। আর সড়কগুলো নষ্ট হওয়ায় ভোগান্তি পোহাচ্ছে এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণ।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, কৃষি জমির উর্বর মাটি ৬ ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা পর্যন্ত চাষাবাদ উপযোগী। এই মাটি সরিয়ে ফেলা হলে পরের ৪-৫ বছর জমিতে ভালো ফসল হয় না। প্রচুর গোবর ও জৈবসার দিয়ে মাটিকে উৎপাদনের উপযোগী করতে কোন কোন ক্ষেত্রে আট দশ বছর লেগে যায়। যা শুধু কৃষকেরই ক্ষতি হচ্ছে না এতে গোটা দেশের কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, উপজেলার মির্জাপুর, ভূনবীর, সিন্দুরখান, আশিদ্রোন, কালাপুর শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা হতে কৃষি জমির মাটি কেটে নেয়া হচ্ছে। এই সব মাটি ট্রাক ও ট্রাক্টর বোঝাই করে নেয়া হচ্ছে বিভিন্ন অঞ্চলে। এতে দিন দিন কমে আসছে আবাদি জমি। বিশেষ করে তিন ফসলি জমিতে পুকুর খনন করায় খাদ্য ফসল উৎপাদনে বিরূপ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে।

শ্রীমঙ্গল ইউনিয়নের রূপশপুর গ্রামের কৃষক মো. রাজু মিয়া জানান, উঁচু ফসলের জমিতে পানি না ওঠায় আমাদের ফসলি জমির মাটি বিক্রি করতে হয়। তাছাড়া আমরা জানতাম না মাটি কাটলে উর্বরতা কমে। আজ জানলাম আর কোন দিন জমির মাটি বিক্রয় করব না।

সিন্দুরখাঁন ইউনিয়নের দরবেশনগর গ্রামের কৃষক মো. সাজ্জাদ মিয়া জানান, আমাদের এলাকায় যেসব জমি উঁচু, পানি থাকে না, সেসব জমি কেটে মাটি বিভিন্ন স্থানে স্থানান্তর করা হয়। এ বছরও এর ব্যতিক্রম হয়নি। আমাদের জমি থেকে যারা মাটি কেটে নেন তারা পরবর্তীতে আমাদের জৈবসার গোবর ও নানা ধরনের সার দিয়ে সহায়তা করেন। মাটি কেটে নেয়ার ফলে জমির উর্বরতার যে ঘাটতি হয় তা গোবর ও সারে পূর্ণ হয়ে যায়। তিনি ফসলি জমি থেকে মাটি কেটে নেয়ায় ফসলি জমির যে উর্বরতা হ্রাস পাচ্ছে তা জানেন না বলে জানান।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন মোনালিসা সুইটি বলেন, কৃষি জমির উর্বর মাটি ৬ ইঞ্চি পরিমাণ গভীরতা পর্যন্ত থাকে। এই মাটি কেটে নেয়া হলে জমিতে প্রচুর গোবর ও জৈবসার দিয়ে মাটিকে আবার উৎপাদনের উপযোগী করতে আট দশ বছর লেগে যায়। যা শুধু কৃষকেরই ক্ষতি হচ্ছে না এতে গোটা দেশের কৃষিজ উৎপাদনে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলছে যা অপূরণীয়। এই জমিকে উপযোগী করতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার জমিতে দিতে হয়। কৃষকদের সঙ্গে আমরা মাঠ পর্যায়ে এ বিষয়ে আলোচনা করে থাকি।

মৌলভীবাজার মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মো.সাইফুল ইসলাম বলেন, জমির মাটি যদি সরিয়ে নেয়া হয় তাকে আবার উপযোগী করতে প্রচুর পরিমাণ কৃত্রিম ও জৈবসার দিতে হয়। আমরা প্রতি মিটিংয়ে এ নিয়ে আলোচনা করে থাকি।

এ বিষয় শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নজরুল ইসলামকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত