নানা নাটকীয়তায় কালকিনি পৌর নির্বাচন ‘কারণ ছাড়াই’ স্থগিত

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০৯:৩৩ পিএম

নানা নাটকীয়তায় মাদারীপুর জেলার কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা নির্বাচন স্থগিত করেছে নির্বাচন কমিশন।

বৃহস্পতিবার রাতে মাদারীপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন ব্যবস্থাপনা ও সমন্বয়-১ শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ মোরশেদ আলমের স্বাক্ষরিত একটি প্রজ্ঞাপনে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি ভোট গ্রহণের জন্য নির্ধারিত মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভা সাধারণ নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করার জন্য নির্দেশনা দেওয়া হয়।

এই নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীরা হলেন- আওয়ামী লীগের মনোনীত এস এম হানিফ, বিএনপির মনোনীত মো. কামাল হোসেন, ইসলামী আন্দোলনের লুৎফার রহমান, স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সাবেক উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মসিউর রহমান সবুজ, স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহেল রানা মিঠু। 

চতুর্থ ধাপে কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন ইভিএম এর মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তুতি ছিল। কালকিনি পৌরসভার মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৪শত। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার তিন শ ও নারী ভোটার সংখ্যা ১৬ হাজার সাত শত জন।

জানা যায়, গত শনিবার দুপুরে নির্বাচনী প্রচারণা চালাচ্ছিলেন কালকিনির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমান সবুজ। সেখান থেকে কালকিনি থানার অফিসার ইনচার্জ নাছিরউদ্দিন পুলিশের গাড়িতে ওঠেন তিনি। এরপর পরই নিখোঁজ হয় সবুজ। এরই প্রতিবাদে বিক্ষোভ নিয়ে কালকিনি থানা ঘেরাও করে সবুজের সমর্থকেরা। টায়ার জ্বালিয়ে স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় কালকিনি-ভুরঘাটা-মাদারীপুর আঞ্চলিক সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পরে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পরে। এতে আহত হয় উভয় পক্ষের অন্তত ৮৬জন মানুষ। আড়াইঘন্টা চলা সংঘর্ষে রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। নিখোঁজের ১৪ ঘণ্টার পর রবিবার ভোর ৪টায় দিকে নিজ বাড়িতে ফেরেন মসিউর রহমান সবুজ।

এদিকে দুই মেয়র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় ৫৭ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়। সেই মামলায় অজ্ঞাত আসামি রয়েছে আরও দুই থেকে তিন শ জন। মামলায় নিজের কর্মী-সমর্থকদের আসামি করার অভিযোগ জানিয়েছেন সবুজ। 

এছাড়া মাদারীপুরের কালকিনির ওসির মোবাইল নম্বর ক্লোন করে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্রপ্রার্থীর ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে ফোন করে নির্বাচনে সুবিধা দেওয়ার কথা বলার অভিযোগ উঠে। এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় গত বুধবার।

কালকিনির স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমান সবুজ জানান, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী আমি মনোনয়ন দাখিল করেছি, সে অনুযায়ী নির্বাচন হওয়ার কথা। নির্বাচন স্থগিত করেছে এমন খবর জানলাম, এই সিদ্ধান্ত আমি গ্রহণ করলাম। তবে নির্বাচন স্থগিত করার কোন কারণ আমি দেখছি না। কোন অপশক্তি এই নির্বাচন স্থগিত করেছে। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

কালকিনি পৌরসভার আওয়ামী লীগ মনোনীত  এস এম হানিফের ব্যক্তিগত মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

কালকিনি উপজেলা নির্বাচন  ও সহকারী রিটার্নিং  অফিসার শেখ বদরউদ্দিন জানান,  কিছু সময় আগে আমাদের জানানো হয়েছে মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পৌর নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। 

কালকিনি উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংরক্ষিত আসনের মহিলা আসনের এমপি তাহমিনা সিদ্দিকি জানান, আমি জানতে পেরেছি কালকিনি পৌরসভার নির্বাচন স্থগিত করা হয়েছে। প্রায় সকল প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা শেষ পর্যায়। এই শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় প্রার্থীদের মানসিক ও আর্থিক সমস্যা হতে পারে। তবে, কিছুদিন আগে কালকিনিতে যে ঘটনা ঘটেছে, এটা আমরা আসা করি নাই। এই কালকিনিতে এ রকম ঘটনা এর আগে কখনো ঘটে নাই। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত