বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ‘দলের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও’ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ভাই বলে পার পেয়ে যাচ্ছেন- এমন দাবি করেছেন ফেনীর কয়েকজন আওয়ামী লীগ নেতা।
ফেনীর তিন আওয়ামী লীগ নেতা ও জনপ্রতিনিধিদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী শহরের ফুডল্যান্ড রেস্টুরেন্টে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ অভিযোগ করেন।
এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন।
বক্তব্য রাখেন ফেনী পৌরসভার মেয়র, ফেনী পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী এবং জেলা যুবলীগের সভাপতি ও দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন।
সংবাদ সম্মেলনে তারা বলেন, ‘কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনের আগে আমেরিকায় গিয়ে বিএনপি নেতাদের মধ্যস্থতায় লন্ডনে পালিয়ে থাকা বিএনপি নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে ভার্চুয়াল মাধ্যমে গোপন সমঝোতায় মিলিত হন’।
তারা বলেন, ‘তিনি বিএনপি-জামায়াতের ভোট নিয়ে মেয়র নির্বাচিত হতে নানা নীতি কথা শুনিয়েছেন। তিনি এসব অপপ্রচারের মাধ্যমে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মওদুদ আহমদের অনুপস্থিতিতে বিএনপি থেকে এমপি নির্বাচিত হওয়ার সমঝোতা করেছেন। আমেরিকার জ্যাকসনের একটি হোটেলে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন তথাকথিত আওয়ামী লীগ নেতা দাবিদার কাদের মির্জা। সে বিএনপি-জামায়াতের সোল এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন। যে কথাগুলো বিএনপির মীর্জা ফখরুল ইসলাম বলছেন, সে কথাগুলো কাদের মির্জা বকছেন’।
আওয়ামী লীগ নেতারা বলেন, ‘তিনি একে একে ফেনী, নোয়াখালী জেলা ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে মিথ্যাচার করে যাচ্ছেন। তিনি বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্ট, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, মাদকাসক্ত, দুশ্চরিত্রবান, বেসামাল ও একজন খুনি। তাকে দ্রুত পাবনা মানসিক হাসপাতাল অথবা কারাগারে প্রেরণের দাবি জানাই’।
তাদের অভিযোগ, ‘কাদের মির্জা সোনাগাজীর ছোট ফেনী নদীর ওপর সাহেবের ঘাট ব্রিজের সংস্কার কাজে ঠিকাদারের কাছে চাঁদা দাবি করেছেন, তিনি বসুরহাট পৌর এলাকায় তার ছেলেকে দিয়ে সিএনজি চালকদের জিম্মি করে চাঁদা আদায় করছেন। সে চায় না আওয়ামী লীগের সভাপতি মারুফ, চরবালুয়ার যুবলীগ সভাপতি সৌরভ, গাঙচিলের যুবলীগ সভাপতি রাশেদ ও চর কাঁকড়া ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা মিন্টুসহ চার নেতাকে খুন করিয়েছে। এর মধ্যে বাদীদের চাপ প্রয়োগ করে একাধিক মামলা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন’।
সংবাদ সম্মেলনে আরো বলা হয়, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডের সিদ্ধান্তকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে। যা সম্পূর্ণ অগঠনতান্ত্রিক। তিনি মুখে নীতি কথা বললেও প্রকৃতপক্ষে বিগত বসুরহাট পৌর নির্বাচনে তার অনুসারী ছাড়া আওয়ামী লীগসহ সাধারণ ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে ঢুকতে দেননি মির্জা অনুসারীরা’।
‘কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী জনৈক কামরুল ইসলাম থেকে কাদের মির্জার ছেলে তাসকিন মির্জা একটি গাড়ি উপহার নিয়েছেন। কাদের মির্জা নিজেকে সৎ বলে দাবি করলেও মূলত দুর্নীতি আর টেন্ডারবাজির মাধ্যমে তিনি আমেরিকায় একটি বাড়ি ক্রয় করেছেন এবং ঢাকা শহরে নামে-বেনামে সম্পদের পাহাড় গড়েছেন’।
কাদরকে ‘গরু চোর’ আখ্যা দেন তারা। দলীয় হাইকমান্ড তার বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা না করলে রাজপথ অবরোধেরও ঘোষণা দেন তারা।
তারা বলেন, ‘ফেনী-নোয়াখালীসহ সারা দেশের হাজার হাজার দলীয় নিবেদিত নেতাকর্মীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ হলেও শুধুমাত্র দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ভাই হয়ে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন’।
তারা আরো বলেন, ‘ফেনীর দাগনভূঞা তার গাড়িবহরে পচা ডিম নিক্ষেপ ও হামলার যে কাল্পনিক অভিযোগ করেছেন তার কোনো সঠিক তথ্য-প্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। অহেতুক ফেনীর শান্তি-সম্প্রীতির অগ্রদূত সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনী পৌরসভার মেয়র নজরুল ইসলাম স্বপন মিয়াজী এবং দাগনভূঞা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতনের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করে যাচ্ছেন। একটি হাটের মেয়র নিয়ে ফেনীর কোনো নেতাকর্মীর মাথা ঘামানোর সময় নেয়। মাদকাসক্ত ও পাগলের স্থান পাগলা গারদে’।
সংবাদ সম্মেলনে আরো উপস্থিত ছিলেন ছাগলনাইয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাউল হায়দার চৌধূরী সোহেল, ফুলগাজী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল আলিম মজুমদার, সোনাগাজী পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম খোকন প্রমুখ।
