‘বন্ধ’ দেশি চিনিকল, ভারত থেকে আমদানি চিটাগুড়

আপডেট : ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১, ০২:৪১ এএম

বাংলাদেশ এতদিন প্রতিবেশী ভারতে চিটাগুড় রপ্তানি করে এসেছে। তবে নতুন বছরে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। গত ২১ ফেব্রুয়ারি বেনাপোল বন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো ভারত থেকে চিটাগুড় আমদানি করা হয়েছে। আমদানির কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, দেশীয় বেশিরভাগ চিনিকল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চিটাগুড়ের অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিয়েছে। এ সংকট মেটাতেই পণ্যটি আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বন্দর সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ২১ ফেব্রুয়ারি ভারতের মধ্যপ্রদেশ থেকে রেলপথে বেনাপোল বন্দরে চিটাগুড়ের ৫০টি ওয়াগন আসে। এগুলো থেকে ঈশ্বরদীতে ২০টি ওয়াগন রেখে বাকিগুলো হিলি রেলস্টেশনে আনা হয়। জয়পুরহাটের মেসার্স আনোয়ারুল হকসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান এসব চিটাগুড় আমদানি করছে। তারা বেনাপোলের রেলপথের পাশাপাশি দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের সড়কপথেও ভারত থেকে চিটাগুড় আমদানি করছে। কলকাতার ইস্টার্ন এন্টারপ্রাইজ এসব চিটাগুড় রপ্তানি করছে। প্রতি টন চিটাগুড়ের আমদানি মূল্য ১১০ ডলার। এর সঙ্গে টনপ্রতি ৪২০০ থেকে ৪৩০০ টাকার মতো আমদানি শুল্ক দিতে হচ্ছে আমদানিকারকদের।

জয়পুরহাটের আমদানিকারক আনোয়ারুল হক বলেন, ‘দেশে এক সময় অনেক চিনিকল সচল থাকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে চিটাগুড় উৎপাদন হতো। ১৯৮৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাড়তি চিটাগুড় হিলিসহ বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে রপ্তানি করা হয়েছে। তবে লোকসানের অজুহাতে বিগত কয়েক বছরে দেশের বিভিন্ন স্থানের বেশিরভাগ চিনিকল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এতে উৎপাদন কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ বাজারেই চাহিদার তুলনায় চিটাগুড় সংকট দেখা দিয়েছে। মূলত এ সংকট মেটাতে ভারত থেকে চড়া দামে চিটাগুড় আনা হচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২১ ফেব্রুয়ারি প্রথমবারের মতো আমি হিলি স্থলবন্দরের রেলপথ দিয়ে ৫০টি ওয়াগনে আড়াই হাজার টন চিটাগুড় আমদানি করেছি। ইতিমধ্যে প্রথম চালানের ৩০টি ওয়াগন হিলি রেলস্টেশনে এসে পৌঁছেছে। এসব চিটাগুড় গবাদিপশু, হাঁস-মুরগি ও মাছের খাদ্য তৈরির বিভিন্ন কারখানায় সরবরাহ করা হবে।’

হিলি রেলস্টেশনের মাস্টার তপন কুমার বলেন, ‘করোনার কারণে গত বছর প্রথম ভারত থেকে রেলপথে হিলি স্থলবন্দরে পেঁয়াজ আমদানি করা হয়। এরপর নিয়মিত পেঁয়াজ, পাথর, গম, ভুট্টা আনা হলেও সম্প্রতি প্রথমবারের মতো চিটাগুড় আমদানি করা হলো। এসব চিটাগুড় আমদানিতে রেলের ভাড়া বাবদ প্রায় ১৯ লাখ টাকা আয় হয়েছে।’

হিলি স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট শ্যামল কিশোর দাস বলেন, ‘ভারতের বাজারে বাংলাদেশের উৎপাদিত চিটাগুড়ের ব্যাপক চাহিদা থাকায় দীর্ঘদিন পণ্যটি রপ্তানি হয়েছে। কিন্তু সম্প্রতি উল্টো ভারত থেকেই চিটাগুড় আমদানি করা হচ্ছে। আর আমরা আমদানির সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দিচ্ছি।’

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘গত কয়েক দিনে বন্দর দিয়ে ১০টি কনসার্নমেন্টের চিটাগুড় আমদানি হয়েছে এবং এ ধারা অব্যাহত রয়েছে। এতে সরকারের রাজস্ব বাড়ার পাশাপাশি বন্দরের আয়ও বাড়ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত