প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ যখন গড়ে তুলেছি, তখন ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব।’
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে কারাবন্দি মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর পর ক্ষোভ-বিক্ষোভের মধ্যে শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে একথা বলেন তিনি।
বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পাওয়ার খবর দিয়ে এই সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এ সময় তার পাশে বসা ছিলেন তার বোন শেখ রেহানা। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এই ভাষণ ও প্রশ্নোত্তর পর্ব সরাসরি সম্প্রচার করে।
প্রশ্নোত্তর পর্বে প্রধানমন্ত্রীকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, বাংলাদেশের ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে সাংবাদিকদের হয়রানি নিয়ে সরকার যে সমালোচিত, সেটা নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
এর জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্বটা আমাদের পালন করতে হবে, কারণ এই ডিজিটাল পদ্ধতির মধ্য দিয়ে আমাদের দেশের ছোট্ট শিশু থেকে শুরু করে কেউ যেন বিপথে যেতে না পারে। কোনোরকম অসামাজিক কার্যকলাপ বা জঙ্গিবাদ বা অন্য কোনো ধরনের কাজের সঙ্গে জড়িত হতে না পারে, সে জন্য ডিজিটাল নিরাপত্তা দেওয়া একান্তভাবে কর্তব্য। যাতে করে এমন কোনো কাজ করতে না পারে, যা দেশের জন্য, দেশের মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, কারও মৃত্যু কাম্য নয়, কিন্তু সেটাকে কেন্দ্র করে অশান্তি সৃষ্টি করা, সেটাও কাম্য নয়। কেউ অসুস্থ হয়ে মারা গেলে কী করার আছে!
জেলখানায় চার জাতীয় নেতা হত্যার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সে রকম কোনো ঘটনা তো ঘটেনি এখনো। যারা সে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল, তাদের সঙ্গেও গাঁটছড়া বাঁধতে দেখা গেছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরা চ্যানেলে প্রচারিত তথ্যচিত্র সম্পর্কে একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি কোনো মন্তব্য না করে বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যারা চায়নি, যারা জাতির পিতাকে হত্যা করেছে, আমাকে যারা হত্যা করতে চেয়েছে, যারা এই দেশটাকে অস্ত্র চোরাকারবারি, দুর্নীতির আখড়ায় পরিণত করে নিজেদের ভাগ্য গড়তে ব্যস্ত ছিল, তারা বাংলাদেশের উন্নতি মানবে কিভাবে? তাদের তো চেষ্টা থাকবেই দেশের বদনাম করার।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘এ নিয়ে আমাদের চিন্তার কিছু নেই। কোন চ্যানেল কি বললো, সেটা আমার রাজনীতি না। আমার রাজনীতি মানুষের জন্য কাজ করা।’
