হাকিমপুর হাসপাতালে হঠাৎ বেড়েছে ডায়রিয়ার রোগী

আপডেট : ০৬ মার্চ ২০২১, ১১:৫৯ পিএম

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করেই বেড়েছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা। এতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন শিশু ও বয়স্করা। আগে ডায়রিয়া রোগী তেমন একটা না থাকলেও এক সপ্তাহ ধরে ১৫-২০ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে হাসপাতালে, রোগীদের ভিড়ে চিকিৎসা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।

দেশের সবচেয়ে উত্তরের জেলা দিনাজপুরের হাকিমপুরে এখনো পুরোপুরি শীতের আমেজ কাটেনি। দিনের বেলায় গরম অনুভূত হলেও বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বা শেষ রাতে এখনো শীত অনুভব হচ্ছে। আবহাওয়ার এমন বিরূপ আচরণ কখনো গরম কখনো ঠান্ডার কারণে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা।

হাসপাতালে শিশু নিয়ে আসা রহিমা বেগম বলেন, হঠাৎ করে বাচ্চার পাতলা পায়খানার সঙ্গে বমি শুরু হয়। কোনো কিছু খাওয়ালে সঙ্গে সঙ্গে তা বের করে দিচ্ছে। এতে করে বাচ্চা একেবারে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। যার কারণে হাসপাতালে নিয়ে এসেছি চিকিৎসার জন্য। তবে চিকিৎসকের  দেওয়া ওষুধ ও পরামর্শ অনুযায়ী বাচ্চা এখন অনেকটাই সুস্থ। আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণেই এমন হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।

হাসপাতালে আসা বৃদ্ধা আসমা বেগম বলেন, গত দুই-তিন ধরে পাতলা পায়খানা হচ্ছে। গতকাল (গত শুক্রবার) থেকে আরও বেশি, সেই সঙ্গে বমি হচ্ছে, শরীর একেবারে দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসা নিতে।

অপর রোগী আবদুল করিম বলেন, কয়েক দিন ধরে দিনের বেলায় গরম আবার রাতে ঠান্ডা। যার কারণে শরীরে কখনো গরম লাগছে আবার কখনো ঠান্ডা লাগছে। এতে তিন-চার দিন ধরে হঠাৎ করে পাতলা পায়খানা শুরু হয়। হাসপাতালে এসেছি চিকিৎসা নিতে। এখন অনেকটাই সুস্থ।

হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. গাদ্দাফি শিকদার বলেন, কয়েক দিন থেকেই ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েছে। ডায়রিয়া রোগীতে ওয়ার্ডগুলো ভর্তি থাকছে, গড়ে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন করে ডায়রিয়া রোগী আসছে হাসপাতালে, আগে যেখানে এই সংখ্যা অনেক কম ছিল। যার কারণে চিকিৎসা দিতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এক্ষেত্রে পাতলা পায়খানা হলে আতংকিত না হয়ে বেশি করে খাওয়ার স্যালাইন ও তরল জাতীয় খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বাইরের খাবার পরিহার, নিরাপদ পানি পানসহ এমন পরিস্থিতিতে সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত