বিদ্যালয় শুধু পাঠ্যপুস্তক অধ্যয়নের স্থান নয় বরং পরবর্তীকালে জীবনের জন্য প্রশিক্ষণক্ষেত্রও বটে। আনুষ্ঠানিক পরিবেশের আদবকেতা, শিষ্টাচার ইত্যাদি শেখারও প্রথম ক্ষেত্র বিদ্যালয়।প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের শিষ্টাচার মেনে চলতে হয়। জানাচ্ছেন বিপুল জামান
১. প্রত্যেক বিদ্যালয়ের নির্দিষ্ট পোশাক আছে। বিদ্যালয়ে সেই নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম পরে উপস্থিত হবে। উচ্চ শিক্ষালয়ে যেমন বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট ইউনিফর্ম থাকে না। সে ক্ষেত্রে পরিষ্কার, পরিপাটি, শালীন ও মানানসই পোশাক পরো।
২. শ্রেণিকক্ষের দেয়াল, চেয়ার, বোর্ড বা ডেস্কে ব্যঙ্গ করে কার্টুন আঁকা ও মন্তব্য লেখাসহ কোনো ধরনের আঁকাআকি, কাটাকাটি করবে না। চেয়ার, বেঞ্চে বা ডেস্কের ওপর কখনো দাঁড়াবে না।
৩. ক্লাসে মোবাইল ফোন ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকো। বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন আনা নিষিদ্ধ হলে তা সঙ্গে আনবে না। যদি বিশেষ প্রয়োজনে মোবাইল ফোন আনার অনুমতি থাকে তবে ক্লাস চলাকালীন সময়ে সাইলেন্ট করে রাখো। প্রতিটি বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট কিছু পালনীয়-বর্জনীয় থাকে। সেগুলো স্বতঃস্ফূর্তভাবে পালন করো।
৪. নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিক্ষক-শিক্ষিকা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মান করবে। প্রতিষ্ঠানের কোনো সীমাবদ্ধতা থাকলে তা যথাযথ কর্র্তৃপক্ষকে জানাবে। প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানি হয় এমনভাবে সর্বসমক্ষে আলোচনা করবে না।
৫. হুট করে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকবে না। কোনো কারণে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকতে হলে অগ্রিম ছুটির আবেদন করো। তা সম্ভব না হলে পরবর্তী সময়ে আবেদনপত্র জমা দাও।
৬. টিউশন-ফি যথাসময়ে পরিশোধ করার চেষ্টা করো। বিলম্ব হলে কর্র্তৃপক্ষকে জানাও। বিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে বাকিতে খাবার খাবে না।
৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি অক্ষুণœ রাখতে নিজের কথা, আচরণ ও কাজের ব্যাপারে সতর্ক হও। তোমার সুনাম বা বদনাম প্রতিষ্ঠানের পরিচিতির ওপরেও প্রভাব ফেলে।
৮. নিজের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তুলনা করবে না। এই তুলনার দিকে নজর দিতে গেলে তোমার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেসব সুযোগ-সুবিধা আছে সেগুলো নজর এড়িয়ে যাবে। সেগুলোও কাজে লাগাতে পারবে না।
৯. বিদ্যালয়ের সম্পদ তোমারও সম্পদ। বিদ্যালয়ের সম্পদ তোমাদের ব্যবহারের জন্যই। তাই এগুলোর কোনোরূপ ক্ষতি করবে না।
১০. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো রাগ-অভিমান, ঝগড়া এবং রেষারেষি ও বিতর্ক এড়িয়ে চলো।
১১. যাদের শ্রম, ঘাম ও ত্যাগের বিনিময়ে বিদ্যালয়ে লেখাপড়ার সুযোগ পাচ্ছো সবসময় তাদের (মা-বাবা, অভিভাবক, শিক্ষক, স্কুলের আয়া, ব্রাদার, গার্ড) অবদানকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণে রাখো। তারা তাদের নিজ কর্তব্যকে যথাযথ পালন করেছেন বলেই তুমি পড়াশোনা করে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে পারছো। পরবর্তী সময়ে তোমার কর্তব্য হবে তাদের যথাযোগ্য সম্মান দেওয়া এবং তাদের প্রতি তোমার দায়িত্ব অকুণ্ঠচিত্তে পালন করা।
১২. বিদ্যালয়ে সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নাও। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় নিজের বিদ্যালয়ের প্রতিনিধিত্ব করা যেমন সৌভাগ্যের তেমনি আনন্দের। প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কার জয় করতে পারলে তো আরও ভালো, আরও সম্মানের। এতে বিদ্যালয়ের সবার কাছে তোমার কদরও বেড়ে যাবে। এ ধরনের সুযোগ কাজে লাগাও।
