চিত্রনায়ক জয় চৌধুরী এই মুহূর্তে বেশ কিছু সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে তিনি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে।
এই মুহূর্তে কী কী কাজ করছেন?
এই মুহূর্তে বেশ কিছু সিনেমার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। এর মধ্যে জাফর আল মামুন পরিচালিত ‘এক পশলা বৃষ্টি’ সিনেমার শুটিং শেষ। এটি প্রযোজনা করছে শাপলা মিডিয়ার। মনোয়ার হোসেন ডিপজলের প্রোডাকশন হাউস অমি বনি কথাচিত্রের ‘অমানুষ হলো মানুষ’ সিনেমায় কাজ করেছি। এটি পরিচালনা করেছেন মনতাজুর রহমান আকবর। এ ছাড়া মনতাজুর রহমান আকবরের পরিচালনায় ‘আয়না’ ছবিতেও কাজ করেছি। এটি প্রযোজনা করেছে মোহনা মুভিজ। সবগুলোর শুটিং শেষ। পোস্ট প্রোডাকশনের কাজ বাকি আছে। এর বাইরে ‘অবাস্তব ভালোবাসা’ ও ‘কাকতাড়ুয়া’ ছবির সেন্সর হয়ে গেছে।
মনতাজুর রহমান আকবরের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন?
আকবর স্যারের সঙ্গে আমার মেন্টালি একটা কানেকশন আছে। ওনার সঙ্গে কাজ করে আমি নতুন কিছু শিখেছি। একেক পরিচালকের কাছ থেকে একেক ধরনের অভিজ্ঞতা অর্জন করি। একজন আর্টিস্টের সঙ্গে বন্ধুর মতো ব্যবহার করে কীভাবে কাজ বের করে আনা যায়, সেটা আকবর স্যার করেন। কোনো শট ভালো না লাগলে বা ঠিকমতো দিতে না পারলে পরে আবদার করলেও তিনি সেটা পুনরায় দারণ করেছেন, ওনার কাছ থেকে এই সাপোর্টগুলো পেয়েছি।
মাহির সঙ্গে একটি সিনেমায় কাজ করেছেন। তার সঙ্গে কাজ করে কেমন লেগেছে?
মাহির সঙ্গে আমি আনন্দ অশ্রু সিনেমায় কাজ করেছি। এটি পরিচালনা করেছেন মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। এই সিনেমায় অল্প সময়ের ব্যবধানে আমাকে তিন চারটা রূপে দর্শকেরা দেখবে। অনেক ভালো গল্প, ভালো একটা কাজ। আর মাহির সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও ভালো। মাহি খুব ফ্রেন্ডলি। ওর সঙ্গে কাজের মজাই আলাদা। ও অনেক হেল্পফুল। যদিও ইন্ডাস্ট্রিতে আমি তার আগে এসেছি কিন্তু সিনেমার সংখ্যা হিসেবে সেই আমার চেয়ে বেশি কাজ করেছে। আমাদের দুজনের কম্বিনেশনও খুব ভালো।
পরপর তিনটি সিনেমায় আঁচলের সঙ্গে কাজ করলেন….
হ্যাঁ, বেশ কয়েকটি সিনেমায় কাজ করলাম আঁচলের সঙ্গে। ও বাস্তব জীবনেও আমার বন্ধু। ফলে কাজ করার সময় আলাদা কোনো যন্ত্রণা বা ঝামেলায় পড়তে হয়নি। ওর সঙ্গে কাজের সময়ও অনেক সুন্দর সময় কাটে।
সাম্প্রতিক করা কাজগুলোর ভেতর কোন কাজটা নিয়ে বেশি আশাবাদী আপনি?
আমার একেকটা ছবি একেক ধরনের। এ. কিউ খোকন এর ‘ভালোবাসি বোঝাবো কি করে’ এক ধরনের ছবি। এখানে বেশকিছু ফাইট আছে। ফাইটগুলো করতে ১৩/১৪ দিন সময় লেগেছে। গানগুলোও করেছি। অন্যরকম কাজ হয়েছে। অ্যাক্টিংয়ের জায়গায় ‘আয়না’ ছবিটি অন্যরকম একটা ছবি হবে। গ্রামের সুঠাম পুরুষের চরিত্রে কাজ করতে হয়েছে। এর জন্য ১০ কেজি ওয়েইট বাড়াতে হয়েছে। আমার প্রত্যেকটা সিনেমায় স্পেশাল। ‘অমানুষ হলো মানুষ’ একটা ক্রেজি ব্যাপার আছে। ডিপজলের সঙ্গে কাউন্টার অ্যাক্টিং করতে গিয়ে কিছুটা প্রবলেমও হয়েছে। কারণ উনাকে বাস্তবে খুব শ্রদ্ধা করি। কিন্তু সিনেমার শটে কাউন্টার অ্যাটাক করতে হয়েছে। সেটা বেশ মুশকিল একটা ব্যাপার ছিল আমার জন্য। সেলিনা হোসেনের গল্প ‘কাকতাড়ুয়া’ থেকে সিনেমা বানিয়েছেন ফারুক হোসেন। এখানে মুক্তিযোদ্ধার চরিত্রে কাজ করতে হয়েছে আমাকে। ফলে সবগুলো চরিত্র নিয়েই আমি আশাবাদী। এর আগে মালেক আফসারীর ‘অন্তর্জ্বালা’ ছবিতে দর্শকেরা আমার চরিত্রটা পছন্দ করেছে। সে জন্য অন্তর্জ্বালার পর ১০/১৫টা ছবি ছেড়ে দিয়েছি। কারণ দর্শকদের তার চেয়েও ভালো একটা ছবি উপহার দিতে চাই।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে এ যাবৎ কী ধরনের কাজ করতে সক্ষম হয়েছেন?
আগামী অক্টোবর মাসের ৩০ তারিখে আমাদের কমিটির দুই বছর পূর্ণ হবে। আমরা আসার পরেই করোনা মহামারি দেখা দেয়। এই দুঃসময়ে আমরা সমিতির সদস্যদের পাশে থেকেছি। প্রায় ১৪বার আমরা অসচ্ছল শিল্পীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি। পাশে দাঁড়িয়েছি। এর বাইরে পূজা, ঈদেও উপহার সামগ্রী পাঠিয়েছি শিল্পীদের। কোরবানিও দিয়েছি সমিতির মানুষদের জন্য। নানা ধরনের কাজই আমরা করেছি।
পরবর্তী নির্বাচনেও কি অংশ নেবেন?
শিল্পী সমিতির পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেব কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে। মানুষের জন্য কাজ করার টেন্ডেন্সি ছোটবেলা থেকেই। আমি সব সময় মানুষের পাশে থাকতে চাই। জায়েদ ভাই থেকে শুরু করে মিশা ভাইসহ সবার সহযোগিতা পেয়েছি। সামনে বার কি করব এখনো সিদ্ধান্ত নিয়ে উঠতে পারি নাই। এখন কাজের চাপটা একটু বেশি সেটাও একটা ব্যাপার। গত চার মাসে তিনটা ছবি শেষ করে ফেলেছি। সামনে যদি আরও তিনটা চারটা ছবিতে সাইন করি তাহলে সমিতিকে তেমন সময় দিতে পারব না। তবে নির্বাচন না করলেও শিল্পীদের পাশে, সমিতির পাশে থাকব।
কাজ করতে গিয়ে সমালোচনার মুখোমুখিও হতে হয়। সমালোচনাকে কীভাবে দেখেন?
সব সময় সমালোচনাকে পজেটিভলি দেখি। কারণ যারা আমার সমালোচনা করছে তারা মূলত আমাকে গণ্য করছে বলেই সমালোচনা করছে, আমার নামটা নিচ্ছে। শিল্পীদের সব সময় সম্মান করার চেষ্টা করি। কেউ বোধ হয় বলতে পারবে না যে কাউকে কখনো অসম্মান করেছি। আমি সব সময় ভালো থাকার চেষ্টা করি। আমি সব সময় সবাইকে নিয়ে চলার চেষ্টা করি।
ইন্ডাস্ট্রির বর্তমান দুরবস্থা নিয়ে আপনি কি শঙ্কিত?
না, শঙ্কিত নই। কারণ, ইন্ডাস্ট্রি শিগগিরই আবার ঘুরে দাঁড়াবে। আমি সমিতির মেম্বার হিসেবে এটা বলছি না, আমি একজন অভিনেতা হিসেবে বলছি। কারণ, আমার কাজটা এখন কেমন চলছে, ভবিষ্যতে কী হবে, সেই বিবেচনা থেকেই বলতে চাই- আমাদের ইন্ডাস্ট্রি এবার ঘুরে দাঁড়াবে। আগে ভাবতাম অনেক বাজেট অনেক অ্যারেঞ্জমেন্ট ছাড়া ছবি চলবে না। সেটা ঠিক নয়। কারণ তামিল বা মালয়ালাম ইন্ডাস্ট্রিতেও বিগ বাজেটের ছবির পাশে ছোট বাজেটের ছবিগুলিও ব্যবসা করছে। বাজেট না গল্প নির্ভর ছবি হতে হবে। আগে বাজেটের উপর গল্প হতো, এখন গল্পের উপর বাজেট হতে হবে। সবাইকে এক টিম হয়ে কীভাবে প্রযোজককে টাকা ফেরত দেওয়া যায় সেটা ভাবতে হবে। এখন শুধু হল না, নানা ধরনের প্ল্যাটফর্ম থেকে টাকা উঠিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। ফলে সবগুলো মাধ্যম ব্যবহার করে প্রযোজককে লগ্নি ফেরত দিতে হবে। আগে ইন্ডাস্ট্রিকে বাঁচাতে হবে। যদিও ইদানীং কম বাজেটের ছবি নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এগুলো ইন্ডাস্ট্রিকে নষ্ট করবে। কিন্তু দেখেন ইন্ডাস্ট্রি কিন্তু আগে থেকেই নষ্ট হয়ে আছে। আমরা ‘মোহনা মুভিজ’কে কনভেন্স করে ‘আয়না’ ছবি বানালাম। এটা কম বাজেটের। আমরাই এই টেন্ডেন্সিটা শুরু করলাম। তারপর মনোয়ার হোসেন ডিপজলকে কনভেন্স করে সিনেমা বানানোর জন্য রাজি করালাম। তিনিও এখন ছবি বানাচ্ছেন। শাপলা মিডিয়া তো ১০০ ছবি নির্মাণের প্রক্রিয়াই শুরু করে দিয়েছে। ফলে ইন্ডাস্ট্রি এবার ঘুরে দাঁড়াবে।
এর বাইরে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বড় সাপোর্ট দিচ্ছেন। ইন্ডাস্ট্রি বাঁচাতে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি সাপোর্ট দিচ্ছেন। এতে হল মেরামত হবে, হলে আবার দর্শক ফিরবে। ইতিমধ্যে তথ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন কীভাবে হলগুলোকে আরও কাজ লাগানো যায়, কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, এসব নিয়ে পরিকল্পনা করছেন তিনি। ইন্ডাস্ট্রির উন্নয়নে পাশে থাকার ঘোষণাও দিয়েছেন।
