আজ স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫০তম বার্ষিকী

আপডেট : ১৯ মার্চ ২০২১, ০২:০০ এএম

আজ ১৯ মার্চ স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধের ৫০তম বার্ষিকী। ১৯৭১ সালের এই দিনে গাজীপুরের জয়দেবপুরে রাস্তার বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড গড়ে তোলেন ছাত্র-জনতা।

একাত্তরের এদিনে ভাওয়াল রাজবাড়িতে তৎকালীন সেনানিবাসে দ্বিতীয় বেঙ্গল রেজিমেন্টকে নিরস্ত্র করার উদ্দেশ্যে ব্রিগেড কমান্ডার জাহানজেবের নেতৃত্বে পাঞ্জাব রেজিমেন্টের একদল সৈন্য জয়দেবপুর সেনানিবাসে আগমন করবে এ খবর পেয়ে জয়দেবপুরের সর্বস্তরের জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ওই সময় জয়দেবপুর সেনানিবাসের অধিনায়ক ছিলেন লে. কর্নেল মাসুদ ও সহ-অধিনায়ক ছিলেন মেজর কে এম সফিউল্লাহ। এ সময় গাজীপুরের বিশিষ্ট রাজনীতিক (সাবেক মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত) শামসুল হক পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করার লক্ষ্যে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতাকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সাবেক সাংসদ হাবিব উল্লাহর নেতৃত্বে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি হাইকমান্ড এবং বর্তমান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হককে আহ্বায়ক করে ৯ সদস্যবিশিষ্ট একটি অ্যাকশন কমিটি গঠন করা হয়। নেতাদের পরামর্শে ছাত্র-শ্রমিক-জনতা হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধকল্পে চান্দনা চৌরাস্তা থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার রাস্তায় বহুসংখ্যক ব্যারিকেড তৈরি করে। দুপুরের দিকে হানাদার বাহিনী চান্দনা চৌরাস্তায় উপস্থিত লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ব্যারিকেড সরাতে বাধ্য করে সেনানিবাসে প্রবেশ করলে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা পুনরায় রাস্তায় ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। ছাত্র-জনতা জয়দেবপুর রেলওয়ে লেভেল ক্রসিংয়ে মালগাড়ির ওয়াগন ফেলে বন্দুক ও বাঁশের লাঠি নিয়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে।

সেনানিবাস থেকে ফেরার পথে জয়দেবপুর লেভেল ক্রসিংয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী উপস্থিত হলেই স্থানীয় সাহসী বীরদের বন্দুক গর্জে ওঠে। কাজী আজিম উদ্দিন আহমেদ (মাস্টার) নিজের বন্দুক দিয়ে প্রথম গুলিবর্ষণ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত