এশিয়ার বৃহত্তম স্বাস্থ্যসেবা গ্রুপ এ্যাপোলো হসপিটালস একদিনে পরপর চারটি মিট্রাক্লিপ প্রক্রিয়া সফলভাবে শেষ করে একটি মাইলফলক অর্জন করেছে।
এর আগে জাপানে গুরুতর অসুস্থ তিনজন হৃদরোগীর ওপরে একই দিনে মিট্রাক্লিপ ইমপ্ল্যান্ট করা হয়েছিল, চার রোগীর ওপর সেই একই প্রক্রিয়া চালিয়ে এগিয়ে গিয়েছে এ্যাপোলো হসপিটালস।
মিট্রাক্লিপ থেরাপিতে ব্যবহৃত পদ্ধতিটি ওপেন হার্ট সার্জারি ছাড়াই ফুটো হওয়া মিট্রাল ভালভকে মেরামত করে; ফলে এটি অপারেশনের ঝুঁকিতে থাকা রোগীদের জন্য জীবনরক্ষক। এই প্রক্রিয়াগুলো সুচারুভাবে সম্পন্ন করেন প্রবীণ ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট ডা: সাই সতীশ।
এ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপের চেয়ারম্যান ডা. প্রতাপ সি রেড্ডি বলেন ‘এটা সত্যিই গর্বের বিষয় যে আমাদের সার্জনরা এশিয়া মহাদেশে প্রথম মাইলফলক অর্জন করছে। আমরা গর্বিত যে এ্যাপোলো হসপিটালস ভারতবর্ষের হৃদরোগীদের মধ্যে মিট্রাক্লিপ পদ্ধতি সম্পাদনের জন্য অনুমোদিত হাসপাতালগুলোর মধ্যে অন্যতম।’
এ্যাপোলো হসপিটালস গ্রুপের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মিস সুনিতা রেড্ডি বলেন ‘মিট্রাল ভালভে ফুটো আছে এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য আমরা মিট্রাক্লিপ চালু করেছিলাম। এই রোগীদের, বিশেষত আশি বছর বয়সের বেশি বয়স্কদের ক্ষেত্রে চিকিৎসার সুযোগ খুবই সামান্য। মিট্রাক্লিপে সফলভাবে চিকিৎসা করা প্রথম রোগীদের মধ্যে একজন ৮৮ বছর বয়সী ছিলেন।’
মাত্র তিন বছর আগে ভারতে প্রবর্তিত হওয়া মিট্রাক্লিপ একটি বৈপ্লবিক পদ্ধতি, যা মিট্রাল ভালভের ফুটো মেরামত করতে একটি অপারেশন-বিহীন বিকল্প সরবরাহ করে। এই পদ্ধতিতে ওপেন-হার্ট সার্জারি এড়ানো যায়। পরিবর্তে ঊরুর একটি শিরা দিয়ে ক্যাথেটারের মাধ্যমে হার্টে পৌঁছায়। রিয়েল টাইম থ্রিডি ইকোকার্ডিওগ্রাফিক এবং ফ্লুরোস্কোপিক গাইডেন্সের মাধ্যমে ক্যাথেটার দিয়ে মিট্রাক্লিপটি হার্টে পৌঁছে দেয়া হয়।
মিট্রাক্লিপ আসার পর থেকে এই বিষয়ে ভারতের মোট ইমপ্ল্যান্টের ৬০% এরও বেশি করেছেন ড. সাই সতীশ নিজেই। তিনি আরো বলেন ‘মিট্রাক্লিপ হচ্ছে একমাত্র পার্ক্যটেনিয়াস (ত্বকের মাধ্যমে সম্পন্ন) পদ্ধতি, যা কার্যকরী বা অবক্ষয়যুক্ত মিট্রাল পুনর্গঠন উভয় ক্ষেত্রেই কার্যকর। তবে আরো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে এর পরে রোগী আবারো সক্রিয়ভাবে সাধারণ জীবনযাপন করতে পারে।’
এ্যাপোলো হসপিটালস গড়ে তুলছে ইকো কানেক্ট প্রজেক্ট, যা মিট্রাল ভালভের ফুটো সহজে শনাক্ত করার হার বাড়িয়ে তুলবে।
