সাকিব টেস্ট খেলতে চাইলে এনওসি পুনর্বিবেচনা

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ১২:২৯ এএম

শ্রীলঙ্কা সফরে টেস্ট সিরিজ খেলতে না চাওয়া নিয়ে সমালোচনায় বিদ্ধ সাকিব আল হাসান। এতদিন তার মুখ থেকে এর কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ওই সিরিজ থেকে ছুটি নেওয়ার দিনই সাকিবের স্ত্রী উম্মে আহমেদ শিশির ফেইসবুকে একলাইনের এক স্ট্যাটাস দিয়ে জানান, ‘সাকিবের অনেক বড় পরিকল্পনা আছে।’ এতদিন পর নিজে বিষয়টা জানাতে গিয়ে অন্য এক বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন দেশের ইতিহাসের সেরা এই অলরাউন্ডার। শনিবার রাতে ক্রিকফ্রেঞ্জি নামে একটি অনলাইনে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ লাইভ অনুষ্ঠানে বিসিবির ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির প্রধান আকরাম খানের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করেন তিনি। তার অভিযোগ চিঠি ভালোভাবে না পড়েই সংবাদমাধ্যমে তার টেস্ট খেলতে না চাওয়ার কথা বলেছেন আকরাম। এতে চিঠির ভুল ব্যাখ্যা হয়েছে বলে দাবি করেন সাকিব।

গত ২০ ফেব্রুয়ারি সাকিব বোর্ডের কাছে শ্রীলঙ্কা সফর থেকে ছুটি চেয়ে আবেদন করেন। এর জবাবে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেশ রূপান্তরকে আকরাম খান তখন বলেছিলেন, ‘সাকিব শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে ছুটি চেয়েছে, তাকে ছুটি দেওয়া হয়েছে। জোর করে বোর্ড কাউকে টেস্ট খেলাবে না। আরও যারা ছুটি চাইবে তাদেরও ছুটি দেওয়া হবে। এখন পর্যন্ত এটাই সিদ্ধান্ত হয়েছে।’ এরপর বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনও সংবাদমাধ্যমে সাকিবের প্রকাশ্য সমালোচনা করেন। নতুন করে বোর্ডের চুক্তির শর্তারোপের কথা বলেন তিনি। গুঞ্জন ওঠে সাকিবকে টেস্টের চুক্তিতে নাও রাখা হতে পারে। তবে সেটা নিউজিল্যান্ড সিরিজের পরই দেখা যাবে বলে জানান পাপন।

শনিবারের লাইভ অনুষ্ঠানে সাকিব বলেন, ‘বারবার শুধু কথা হচ্ছে, আমি টেস্ট খেলতে চাই না। আমি নিশ্চিত, বিসিবিকে আমি যখন চিঠি দিয়েছি, যারাই বলছেন যে, আমি টেস্ট খেলতে চাই না বা টেস্ট খেলব না, তারা চিঠিটা পড়েননি। আমি আমার চিঠিতে কোথাও উল্লেখ করিনি যে, আমি টেস্ট খেলতে চাই না। আমি শুধু উল্লেখ করেছি, আমি বিশ্বকাপ প্রস্তুতির জন্য এই সময়টাতে আইপিএল খেলতে চাই। এটাই বলেছি।’

সাকিবের এ মন্তব্যে ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয় বিসিবিতে। বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে আকরাম খান জানান, ‘আজ আমরা কথা বলব না এ ব্যাপারে। বোর্ড সভাপতির সঙ্গে আগে কথা বলব। মিটিং করব আমরা। মিটিংয়ের পর এ বিষয়ে আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে কথা বলব।’ পরে সন্ধ্যার দিকে বোর্ড প্রধান নাজমুল হাসান পাপনের গুলশানের বাসায় যান বোর্ডের পরিচালকরা। সেখান থেকে বেরিয়ে আকরাম খান জানান, মূলত নিউজিল্যান্ড সফররত দল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘সামনে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে আছে, সেসব নিয়ে আলোচনা করেছি যেন দলে কোনো প্রভাব না পড়ে। আর অনেক কথার মধ্যে একটা কথা শুনেছি যে, সে (সাকিব) চিঠি দিয়েছে কিন্তু আমি চিঠিটা পড়িনি। ঠিক আছে আমি হয়তবা ভুল বুঝতে পারি ওর চিঠিটা, ও টেস্ট খেলতে চাচ্ছে, তো কাল-পরশু বোর্ডের সবার সঙ্গে আলোচনা করে ওর এনওসি (নো অবজেকশন সার্টিফিকেট) ব্যাপারে আমরা চিন্তা করব। মানে ওর যদি টেস্টে ইন্টারেস্ট থাকে তো ও টেস্ট খেলবে। আর বাকি যেগুলো আছে, আমরা সাক্ষাৎকারটা দেখে সিদ্ধান্ত নেব কী করা যায় না যায়।’

শনিবারের লাইভে সাকিব বোর্ডের কয়েক পরিচালকের দায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন, ‘বোর্ডে বেশ কয়েকজন আছেন, যারা বাংলাদেশের হয়ে খেলেছেন। তারা ক্রিকেটার তৈরির ব্যাপারে কী কাজ করেছেন, তা আমি জানি না। কারণ গত ৪-৫ বছরে আমাদের পাইপলাইন তৈরি হয়নি। পাইপলাইন মানে কী? একজন ক্রিকেটার তৈরি থাকবে, যে কিনা আমাদের মতো কারও জায়গায় জাতীয় দলে রিপ্রেজেন্ট করতে পারে। তার শেখার কিছু থাকবে না। কিন্তু আমাদের পাইপলাইনে এমন ক্রিকেটার কোথায়। একমাত্র সুজন (খালেদ মাহমুদ) ভাই অনূর্ধ্ব-১৯ দলটিকে নিয়ে কাজ করেছেন তার ফলও আমরা দেখেছি। সুজন ভাই এবং পাপন ভাইকে ২০১৯ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ের জন্য কৃতিত্ব দিতে হবে। এইচপি দলেরও কিছু ভালো ক্রিকেটার আছে। কিন্তু পাইপলাইন তৈরি করার মতো কিছু বাকিরা করতে পারেননি। জাতীয় দল খারাপ করছে জবাবদিহিতা কোথায়, ভালো করার পরিকল্পনা কোথায়। তাহলে ক্রিকেট অপারেশন্স কী করছে? তাই পাপন ভাই ও সুজন ভাই ছাড়া কৃতিত্ব দেওয়ার মতো বোর্ডের আর কাউকে খুঁজে পাচ্ছি না। আমার মনে হয় না তারা ক্রিকেট নিয়ে বেশি কিছু ভাবেন।’

আকরাম খান এ বিষয়ে বলেন, ‘ডেফিনেটলি, আমার তো শুধু সাকিবকে নিয়ে দায়িত্ব না, আমার দায়িত্ব পুরো বাংলাদেশকে নিয়ে। আমি এত বড় দায়িত্বে আছি এবং অনেক দিন ধরেই আছি। এখন কারও চিঠি যদি আমি ঠিকভাবে না পড়ি...ওইটাই বললাম, হয়তবা...আমরা তো শ্রীলঙ্কা যাচ্ছি দুটি টেস্ট খেলতে। সেখানে ওয়ানডেও নাই টি-টোয়েন্টিও নাই। তো সে তো ওটায় ছুটি চেয়েছে। তো সেটাই আমরা এখন যেটা হবে, ও যদি টেস্ট খেলতে চায় তো খেলবে, তাহলে আমরা ওর এনওসির ব্যাপারে চিন্তা করব।’

এইচপির দায়িত্বে থাকা সাবেক অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় রাতে সাংবাদিকদের বলেন, ‘যখন এইচপি ভালো করছে, কয়েকজন জাতীয় ক্রিকেটার সমৃদ্ধ আয়ারল্যান্ড উলভসের সঙ্গে পুরো সিরিজটা জিতেছে। তখন এই প্রশ্ন তোলা আমার কাছে খুব সারপ্রাইজিং। এর পেছনে কিছু আছে কি না আমি জানি না।’ সভাপতি, বোর্ড পরিচালকরা ব্যর্থ কি নাএমন প্রশ্ন দুর্জয় বলেন, ‘ব্যর্থ কী সেন্সে, তিনি তো পারফরম করছেন। সেই পারফরম্যান্সের ভেতরে তো সাকিব নিজেও ছিল। বিশ্বকাপে করেছে, অনূর্ধ্ব-১৯ দল বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, এইচপি ভালো করছে, কভিডের মধ্যেও ঘরোয়া ক্রিকেট আয়োজিত হচ্ছে, জাতীয় লিগ শুরু হচ্ছে। এগুলো যদি ব্যর্থতা হয়... বোর্ড সভাপতি কঠোর সিদ্ধান্ত নেন কি না সেটা সামনে দেখতে পারবেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত