পঞ্চগড়ে লকডাউনের মধ্যেও দোকান খোলা রাখায় জরিমানা করতে গেলে ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর বস্ত্র ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা চড়াও হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরে প্রতিরোধের মুখে সেখান থেকে সরে যেতে বাধ্য হন ম্যাজিস্ট্রেট। এর কয়েক মিনিটের মধ্যেই দোকান খোলা রাখার দাবিতে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়ক প্রায় এক ঘণ্টা অবরোধ করে রাখে বস্ত্র ব্যবসায়ী ও কর্মচারীরা।
সোমবার লকডাউনের মধ্যেও দোকান খোলা রাখায় পঞ্চগড় সদর উপজেলা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম বাজারের আলহাজ ক্লথ স্টোরে জরিমানা করতে গেলে এ ঘটনা ঘটে।
পঞ্চগড় বস্ত্র মালিক সমিতির সভাপতি শহিদুল ইসলাম খান ও সহসভাপতি আব্দুল হান্নান আলহাজের নেতৃত্বে কয়েকশ বস্ত্র মালিক ও কর্মচারী দোকান খোলা রাখার দাবিতে পঞ্চগড়-ঢাকা মহাসড়কসহ করতোয়া সেতুর উত্তর প্রান্তে বাঁশ ফেলে অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকে। তারা সড়কে আগুন জ্বালিয়ে মিছিল করতে থাকে। এ সময় সড়কে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন পথচারীরা।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সরকার লকডাউন ঘোষণা করলেও পঞ্চগড়ে সব চলছে স্বাভাবিক নিয়মে। বালু, পাথর, পরিবহনসহ বিভিন্ন যানবাহন চলছে। সেখানে কেউ কোন প্রতিবাদ করছে না। এমনকি তাদের জরিমানাও করা হচ্ছে না। কিন্তু কেবল কাপড়ের দোকান খোলা থাকায় জরিমানা করতে আসছে প্রশাসনের লোকজন।
পঞ্চগড় বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতির শহিদুল ইসলাম খান বলেন, ম্যাজিস্ট্রেটের সাথে আমাদের এক দোকান মালিকের কথা-কাটাকাটি হয়েছে। এ ঘটনায় পরে আমাদের নামে যেন মামলা না হয় আমরা সেই চেষ্টা করছিলাম। সবাই একসাথে সড়কে থাকার কারণে চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বহিরাগত কিছু লোকজন অবরোধ করে। বস্ত্র মালিক ও কর্মচারীরা এর মধ্যে জড়িত ছিল না।
পঞ্চগড় সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফ হোসেন, ব্যবসায়ীদের সাথে একটু ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে তারা দুঃখ প্রকাশ করেছে। তারা দোকান খোলা রাখার দাবি করছিল। এটা কেবিনেটের সিদ্ধান্ত। আমরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেয়ার ক্ষমতা রাখি না। তারপরও আমরা তাদের দাবি দাওয়া নিয়ে রাস্তায় বিক্ষোভ না করে জেলা প্রশাসকের সাথে কথা বলার জন্য বলেছি। পরে তারা বিক্ষোভ তুলে নিয়েছে।
