বাইডেনের সম্মেলনে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য ‘বৈশ্বিক উদ্যোগ’ দাবি

আপডেট : ১৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:১৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আহ্বানে অনুষ্ঠিতব্য জলবায়ু সম্মেলনে জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য বিশেষ বৈশ্বিক উদ্যোগের বিষয়টি তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন নাগরিক সমাজ।

‘জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সম্মেলন: নাগরিক সমাজের প্রত্যাশা’ শীর্ষক ভার্চুয়াল সেমিনারে বক্তারা এই আহ্বান জানান।

কোস্ট ফাউন্ডেশন এবং স্থায়িত্বশীল পল্লী জীবন-জীবিকার জন্য প্রচারাভিযান (সিএসআরএল), ক্লিন-বিডি, বিআইপিএনইটি-সিসিবিডি, সিপিআরডি এই সেমিনারের আয়োজন করে।

পল্লী কর্ম সহায়ক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলিকুজ্জামান আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী।

কোস্ট ফাউন্ডেশনের রেজাউল করিম চৌধুরীর সঞ্চালনায় সেমিনারে আরও বক্তৃতা করেন সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিসিএএস নির্বাহী পরিচালক ড. আতিক রহমান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের এমেরিটাস অধ্যাপক ড. আইনুন নিশাত, পরিবেশ ও বন মন্ত্রনালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ডা. মনজুরুল হান্নান খান, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, সিএসআরএলের জিয়াউল হক মুক্তা,  সিপিআরডি’র নির্বাহী পরিচালক শামসুদ্দোহা, বিপনেট-সিসিবিডি’র মৃণাল কান্তি ত্রিপুরা, ক্লিন-বিডি’র হাসান মেহেদি, বাংলাদেশ ক্লাইমেট জার্নালিস্ট ফোরামের কাওসার রহমান প্রমুখ।

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করতে গিয়ে কোস্টের সৈয়দ আমিনুল হক বলেন,  জলবায়ু পরির্বতন মোকাবেলার আন্দোলনে বৈশ্বিক নেতৃত্ব নিতে চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে এক্ষেত্রে বিশেষ উদ্যোগ নিগে হবে, যেমন-গ্রিন হাউজ গ্যাস নির্গমন হ্রাস করা, সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের অভিযোজন ও প্রশমন কর্মসূচিতে অর্থায়ন করতে হবে।

মূল প্রবন্ধে কিছু সুনির্দিষ্ট সুপারিশ তুলে ধরা হয়, যেমন- যুক্তরাষ্ট্রকে কার্বন নিঃসরণ মাত্রা ২০১০ সালের তুলনায় ২০৩০ সালের মধ্যে ৪৫ শতাংশ কমানোর লক্ষ্যমাত্র নির্ধারণ করে জাতীয় পরিকল্পনা গ্রহণ, যাতে ২০৫০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নেমে যায়।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ডে তিন বিলয়ন ডলার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হবে এবং সর্বোচ্চ বিপদাপন্ন দেশগুলোর অভিযোজন এবং প্রশমনের সহায়তার জন্য মেধাস্বত্ব শিথিল করতে হবে।

ড. খলিকুজ্জামান বলেন, যে ক্লাইমেট ভালনারেবল ন্যাশান ফোরাম (সিভিএফের) চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ আসন্ন এই শীর্ষ সম্মেলনে তার জলবায়ু বিপদপিন্নতার বিষয়গুলো ধুলে ধরবে।

সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় একটি বহুপাক্ষিক উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা যাচাইয়ের অংশ হিসেবেই  জো বাইডেন এই শীর্ষ সম্মেলন আহ্বান করেছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য বড় কার্বন নির্গমনকারীদের জন্য আমাদের ১.৫ ডিগ্রি সীমা বেঁধে দিতে হবে এবং এই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে পূরণের কর্মসূচি দিতে হবে।

ড. আইনুন নিশাত বলেন, প্যারিস চুক্তির আওতায় বাজার ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ হয়তো লাভবান হবে না। বরং অর্থায়ন এবং জলবায়ু অভিবাসনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। কারণ যুক্তরাষ্ট্র অভিবাসন বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে।

জিয়াউল হক মুক্তা বলেন, জলবায়ু বাস্তুচ্যুতদের জন্য পৃথক ব্যবস্থা চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত