ভৈরবের আগানগর ইউনিয়নে ধান মাড়াইকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে মুগল শেখ (৩০) ও পাবেল শেখ (২২) নামে দুই ব্যক্তি নিহত ও ৩ জন হয়েছেন। এ ঘটনায় অর্ধশত বাড়ি-ঘর ভাঙচুর ও লুটপাট হয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শনিবার ইউনিয়নের লুন্দিয়া ও খলাপাড়া এলাকায় দুই দফার সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহত মুগল শেখ খলাপাড়া শেখ বাড়ির মুতালিব শেখের ছেলে আর পাবেল শেখ লুন্দিয়া শেখ বাড়ির আব্দুল খালেক শেখের ছেলে।
আহতদের মধ্যে গুরুতর ১০ জনকে ঢাকা ও বাজিতপুরের ভাগলপুর জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে উন্নত চিকিৎসার জন্য। সংঘর্ষ চলাকালে ২৫ থেকে ৩০টি বাড়ি-ঘরে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ঘণ্টাব্যাপী চেষ্টা চালিয়ে সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণ করে। বর্তমানে সেখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এলাকায় উত্তেজনাসহ থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন জানায়, শনিবার সকাল ৯টার দিকে শেখবাড়ির লোকজন মাঠে ধান মাড়াই করতে গেলে স্থানীয় শিকদার বাড়ির লোকজন তাদের গালাগাল করে। এ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষ বাঁধলে উভয় পক্ষের ১০/১৫জন আহত হন। গুরুতর আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে মুগল শেখকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
এ খবর লুন্দিয়া গ্রামের পৌঁছালে সেখানকার শেখ বংশের লোকজন ও শিকদার বাড়ির আত্মীয় পাগলা বাড়ির লোকজনের মধ্যে দুপুর ১২টার দিকে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের আরও ১৫ থেকে ২০জন আহত। গুরুতর আহত অবস্থায় শেখ বাড়ির পাবেল শেখকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ বিষয়ে ভৈরব থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী মাহফুজ জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আছে। পরবর্তী যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
