নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

আপডেট : ২০ এপ্রিল ২০২১, ১১:১০ পিএম

প্রথম অধ্যায় : ইতিহাস পরিচিতি

সৃজনশীল

১. সজল তার মামার সঙ্গে জাতীয় গণগ্রন্থাগারে যায়। সেখানে সে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সজল বিজ্ঞানের ছাত্র হয়েও ইতিহাসের বই তার কাছে ভালো লাগে। সে বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বই সংগ্রহ করে পড়ে। সজলের বাবা তাকে শুধু বললেন, শুধু শুধু এসব বই পড়ে সময় নষ্ট করছো কেন?

ক. হিউয়েন সাং কোন দেশের পরিব্রাজক?

খ. সময়ের বিবর্তনে কীভাবে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে?

গ. সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান দেখতে পায়? ব্যাখ্যা কর।

ঘ. তুমি কি সজলের বাবার মানসিকতার সঙ্গে একমত? যুক্তি দাও।

উত্তর

ক. হিউয়েন সাং চীন দেশের বা চৈনিক পরিব্রাজক।

খ. সময়ের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ইতিহাসের পরিসরেরও বিস্তৃত হচ্ছে। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সমাজ সভ্যতায় নতুন নতুন ঘটনার জন্ম হচ্ছে। এসব ঘটনা অতীতের ক্রমবিবর্তন এবং অতীত ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। তবে এখন বর্তমান সময়ের ইতিহাসও লেখা হয়, যাকে বলা হয় সাম্প্রতিক ইতিহাস। সাম্প্রতিক ইতিহাস একসময় অতীত ইতিহাস হয়, পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস হয়। সুতরাং এইভাবেই সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।

গ. সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়। এখানে সাহিত্য, দেশি-বিদেশি উল্লেখযোগ্য ঘটনার অতীত বিবরণ, দলিলপত্র, বৈদেশিক বিবরণ ইত্যাদি। সজল আরও দেখতে পায় প্রাচীন, মধ্য ও আধুনিক যুগের শাসনকার্য এবং বিভিন্ন শাসকদের সময় ও শাসন প্রকৃতির তথ্য। এছাড়া বিশ্বের খ্যাতিমান কবি-সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য গ্রন্থও জাতীয় গণগ্রন্থাগারে রক্ষিত আছে। সভ্যতার বিভিন্ন প্রকৃতি সম্পর্কে বিবরণের ওপর রচিত পুস্তকও জাতীয় গণগ্রন্থাগারে রয়েছে। সর্বোপরি সজল দেখতে পায় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের ওপর লিখিত বিভিন্ন পুস্তক এবং ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক মুক্তিযুদ্ধের বিবরণের ওপর লিখিত বিভিন্ন বই। এছাড়া এসব লিখিত উপাদানে বড় বড় মনীষীদের এবং দেশপ্রেমিক মানুষদের জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ লিপিবদ্ধ থাকে। যা মানুষকে বড় হতে উৎসাহিত করে।

ঘ. আমি সজলের বাবার মানসিকতার সঙ্গে একমত না।

সজলের বাবা যেভাবে সজলকে বলেছে তাতে ঐতিহাসিক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হওয়ার পরিবর্তে তিরস্কার করা হয়েছে। এতে সজল ঐতিহাসিক চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন হওয়ার পরিবর্তে স্বার্থপর আত্মকেন্দ্রিক হয়ে বেড়ে উঠবে। মানবসমাজ ও সভ্যতার বিবর্তনের সত্য-নির্ভর বিবরণ হচ্ছে ইতিহাস। কারণ ইতিহাসে মানুষের অতীত ঘটনাবলি এবং সভ্যতার উপস্থাপন করা হয়। ফলে ঐতিহাসিক কোনো ভালো নিদর্শন থেকে ভালো কিছু করার নির্দেশনা পাওয়া যায়। বড় বড় মনীষীদের এবং দেশপ্রেমিক মানুষদের জীবনসংগ্রাম ও আদর্শ লিপিবদ্ধ থাকে। যা জানার মাধ্যমে মানুষ বড় মানুষ হতে উৎসাহিত হয়। ঐতিহাসিক কোন শাসকের শাসনকার্য ব্যর্থ হয়ে থাকলে তা থেকেও ভালো করার শিক্ষা লাভ করা যায়। ইতিহাস মানুষকে শুদ্ধ হওয়ার শিক্ষা দেয়। তাছাড়া ইতিহাস অতীত, সমাজ, সংস্কৃতি, সভ্যতা, আচার-অনুষ্ঠান, ব্যক্তির উদারতা, সাহসিকতা, সামাজিক ও মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টান্ত এবং পারিবারিক জীবনযাপন নিয়ে আলোচনা করে। ইতিহাস মানুষের জীবনযাপনে সমৃদ্ধি আনে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে।

ওপরের আলোচনা থেকে এই কথা নিঃসন্দেহে বলা যায়, ইতিহাসের গুরুত্ব না বুঝে এবং ইতিহাস সম্পর্কে পরিষ্কার কোন ধারণা না থাকায় সজলের বাবা উদ্দীপকে উল্লেখিত যুক্তি দেখিয়েছেন। তাই সজলের বাবার মানসিকতার সঙ্গে আমি একমত নই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত