রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডে পরিচয়পত্র ও পুলিশের ‘মুভমেন্ট পাস’ দেখানো নিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে এক নারী চিকিৎসকের বচসার ঘটনায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশন।
এক বিবৃতিতে ওই নারী চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে তারা।
গত ১৮ এপ্রিল তাদের বাগ্বিতণ্ডার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর পক্ষে বিপক্ষে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের সভাপতি ও ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ বি এম ফরমান আলী এবং সাধারণ সম্পাদক ও যাত্রাবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ মাজহারুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে একজন চিকিৎসকের এহেন ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণিকে মুখোমুখি দাঁড় করানোর একটি অপচেষ্টা মাত্র। কিছু লোকের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডের কারণে পেশার সবাই দায়ভার গ্রহণ করবে তা এসোসিয়েশন কখনো মনে করে না। দেশের সব চিকিৎসকদের প্রতি আমাদের অকৃত্রিম শ্রদ্ধাবোধ ও কৃতজ্ঞতা সর্বদা বিদ্যমান। ওই চিকিৎসক কর্তৃক সরকারি কাজে অসহযোগিতা, প্রকাশ্যে গালিগালাজ, ঔদ্ধত্যপূর্ণ ও অসৌজন্যমূলক আচরণে কর্তব্যরত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের স্ব-স্ব ইউনিটের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। বিএসএমএমইউ-এর একজন প্রত্যক্ষদর্শী ডাক্তার তাৎক্ষণিক ম্যাজিস্ট্রেট-পুলিশের নিকট ওই ডাক্তারের অশোভন আচরণের জন্য ক্ষমা চান, তদুপরি, ওই নারী চিকিৎসকের অন্যায়কে সায় দিয়ে কারো সাফাই গাওয়া দুঃখজনক।
এতে বলা হয়, আমরা, বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের পক্ষে সেদিনের আলোচিত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কর্মকাণ্ড নানাভাবে অবলোকন করে ডাক্তারের প্রতি পুলিশ বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক কোনো অসৌজন্যমূলক আচরণ দেখতে পাইনি। এর বিহিত-ব্যবস্থা না হলে মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট বারবার লাঞ্ছিত হবে, কাজে উদ্যম হারিয়ে ফেলবে এবং অনেকে আইনের প্রতি অশ্রদ্ধাশীল হয়ে এরূপ কাজ করার সুযোগ গ্রহণ করবে।
তারা বলেন, যেহেতু বিষয়টি সংবেদনশীল, যাতে রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন পেশাজীবী শ্রেণিকে মুখোমুখি দাঁড় বা একে-অপরের প্রতি ক্ষোভ বা দূরত্ব সৃষ্টি না হয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রেখে দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশ এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, গত ১৮ এপ্রিল আনুমানিক ১২টায় নিউ মার্কেট থানার এলিফ্যান্ট রোডে সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী আরোপিত বিধিনিষেধ কার্যকর করার লক্ষ্যে পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক যৌথ অভিযান পরিচালনার সময় প্রাইভেটকারে আরোহী একজন অনুমেয় নারী চিকিৎসককে সিগন্যাল দিয়ে আইডি কার্ড দেখাতে বললে তিনি উত্তেজিত হয়ে নানা অপ্রাসঙ্গিক কথাবার্তার অবতারণা করেন এবং পুলিশের কাজে সহায়তা না করে বরং পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ওপর চড়াও হয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে অসৌজন্যমূলক ও শিষ্টাচারবহির্ভূত আচরণ করেন।
এতে বলা হয়, পেশাগত দায়িত্বের অংশ হিসেবে নিউমার্কেট থানা পুলিশ ঘটনার দিন একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটসহ এলিফ্যান্ট রোড এলাকায় চেকপোস্টের মাধ্যমে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছিলেন। সরকারি আদেশ বাস্তবায়ন করতে গিয়ে অ্যাপ্রোন পরিহিত একজন নারী চিকিৎসকের পরিচয়পত্র দেখতে চাওয়া পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেটের অনধিকারচর্চা বা হেনস্তার কিছু নয়। আইডি কার্ড দেখতে চাওয়ায় উক্ত চিকিৎসক কর্তৃক কর্তব্যরত পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেট যেভাবে হেনস্তার শিকার হয় তা উপস্থিত জনতা এবং মিডিয়াকর্মীদের দ্বারা ধারণকৃত ভিডিওচিত্র বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে ভাইরাল হলে দেশের মানুষ তা দেখতে পায়।
