সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থিত বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন ‘বুর্জ আল খলিফার’ ডিসপ্লে-তে নিজের ছবি দেখার অভিজ্ঞতাকে ‘এক জীবনের অর্জন’ বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশের কুমিল্লার বাসিন্দা মোশাররফ হোসেন শহীদ। করোনাভাইরাসের ভয়াবহ সংক্রমণের মধ্যে সাহসী ভূমিকা রাখায় ১৬ এপ্রিল তাকে এভাবে সম্মাননা জানায় দেশটি।
৩৮ বছর বয়সী মোশাররফ হোসেন শহীদ ২০০৬ সাল থেকে মিউনিসিপালিটির ‘ইমার্জেন্সি পেস্ট কন্ট্রোল ডিপার্টমেন্টে’ কাজ করছেন । করোনাভাইরাস সংক্রমণ শুরুর পর তাকে আত্মসুরক্ষা ও জীবাণুমুক্তির কাজে ব্যবহার হওয়া রাসায়নিকের মিশ্রণ এবং প্রয়োগের ওপর বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
‘ওই সময় বুঝিনি এর অর্থ কী কিংবা আমার জীবনে কী প্রভাবই বা পড়বে,’ নিজের ছবি দেখার অভিজ্ঞতার কথা এভাবে বলছিলেন মোশাররফ, ‘এখন অনেক মানুষ আমাকে সম্মান করছে। বন্ধু-বান্ধব থেকে শুরু করে পৃথিবীর অনেক মানুষ আমাকে ফোন করছে। সবাই ফ্রন্টলাইন হিরো হিসেবে সম্বোধন করছে। এটা তো এক জীবনের অর্জন।’
মোশাররফ বলেন, ‘মাস্ক, গ্লাভস, ফেইস শিল্ড, প্রটেক্টিভ স্যুটে সজ্জিত হয়ে কারফিউ চলাকালে কখনো হেভি ভেহিকলে, কখনো বাইকে, কখনো ড্রোনের মাধ্যমে জীবাণুমুক্তির কাজ করতে হতো আমাদের। কাজগুলো সহজ ছিল না। কিন্তু আমি দিনের পর দিন, রাতের পর রাত কাজ করে যেতাম। বুঝতে পারতাম এটা কত জরুরি। অন্যদিকে আমার পরিবার-পরিজন উৎকণ্ঠায় থাকত আমি আবার করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হই কি না।’
ছেলেবেলার স্বপ্ন প্রসঙ্গে মোশাররফ বলেন, ‘আমি সব সময় স্কুলশিক্ষক হতে চেয়েছিলাম। পরে ২০০৩ সালের দিকে চলে আসি আমিরাতে।’
