লোকবলের অভাবে রাজশাহীর পিসিআর মেশিন যাচ্ছে খুলনায়!

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ০৭:০৮ এএম

করোনা পরীক্ষার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজে (রামেক) একটি নতুন পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হলেও সেটি নিতে আগ্রহ নেই কলেজ কর্তৃপক্ষের। কারণ হিসেবে লোকবল না থাকার কথা জানিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ। এ অবস্থায় এটি রাজশাহী থেকে চলে যেতে পারে খুলনায়।

গত মঙ্গলবার রাজশাহী বিভাগীয় উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজের জন্য একটি পিসিআর মেশিন বরাদ্দের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। এটি স্থাপনের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। তারা রামেকে এটি স্থাপনের জন্য উদ্যোগ নিলেও কলেজ কর্তৃপক্ষ এজন্য জায়গা নির্ধারণ করে দেয়নি। মেশিনটি নেওয়ার বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যাও তুলে ধরে মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষ।

স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রমতে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, পাবনা হাসপাতাল ও বগুড়ার হাসপাতালের জন্য নতুন একটি করে পিসিআর মেশিন বরাদ্দ হয়েছে। সরকারি এ বরাদ্দ নিশ্চিত হওয়ার পর সব ধরনের প্রস্তুতিও নিয়েছে পাবনা ও বগুড়া। তবে রামেকে এখনো তাদের জায়গা নির্ধারণ করেনি। নতুন এ মেশিনটি বর্তমান মেশিনের চেয়ে দ্বিগুণসংখ্যক টেস্ট করতে সক্ষম। মেশিনটি যুক্ত হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজে প্রতিদিন প্রতিবারে ২৮২টি টেস্ট করার সুযোগ পেত। তবে লোকবল সংকটের কারণে এটি নিতে পারছে না রামেক কর্তৃপক্ষ।

রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুল আহসান তালুকদার বলেন, ‘রাজশাহী বিভাগের জন্য নতুন তিনটি পিসিআর মেশিন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। একটি রাজশাহী মেডিকেল কলেজ, একটি পাবনা মেডিকেল কলেজ এবং একটি বগুড়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখন এসব মেশিন বসানোর জন্য জায়গা নির্ধারণ এবং এর প্রয়োজনীয় কাজ করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। কাজ শেষ হলেই মেশিন চলে আসবে। আগামী এক মাসের মধ্যেই এগুলো চালু হবে বলে আশা করছি। এই পিসিআর মেশিনগুলো বর্তমানে চালু মেশিনগুলোর থেকে অন্তত দ্বিগুণ বেশি ক্ষমতাসম্পন্ন হবে। এটি হলে টেস্ট বাড়বে। আমাদের আর ছোটাছুটি করতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, পাবনা ও বগুড়ায় ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। তবে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ এটির জায়গা নির্ধারণ করে দেয়নি। তারা এটি নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছে নেবে কি নেবে না। এটি রাজশাহীর অন্য কোথাও বসানোর সুযোগ নেই। তারা না নিলে এটি অন্য কোনো জেলায় চলে যাবে।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. নওশাদ আলী বলেন, ‘আমাদের এখানে একটি নতুন পিসিআর ল্যাব দেওয়ার কথা বলছিল। আমাদের এখানে বর্তমানে দুটি মেশিন চলে। এজন্যই যে লোকবল দরকার তারই সংকট আছে। আর একটি মেশিন চালানোর জন্য লোকবল নেই। আমরা মন্ত্রণালয়কে লিখেছি। জনবলের জন্য বলেছি। জনবল ছাড়া শুধু মেশিন দিলে তো আমরা চালাতে পারব না, তখন এটি পড়ে থাকবে। এত দামি একটা মেশিন নিয়ে ফেলে রেখে লাভ কি? আর আমরা এটি চালাতে না পারলে এ নিয়ে পরে সমালোচনা হবে। আমরা মেশিন নিতে আগ্রহী, কিন্তু এজন্য যে জনবল দরকার সেটির দাবি করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘এক সপ্তাহ আগেই আমরা এটি মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। তারা আমাদের এখনো কোনো কিছু জানায়নি। তবে আমি যেটুকু শুনছি সম্ভবত এই পিসিআরটি খুলনায় পাঠিয়ে দেওয়া হতে পারে। সেখানে পিসিআর মেশিন নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত