অস্ট্রেলিয়ায় সরকারের বিরুদ্ধে ‘চুরি যাওয়া প্রজন্মের’ মামলা

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২১, ১০:২৭ পিএম

অন্তর্ভুক্তি নীতির অধীনে ১৯১০ থেকে ১৯৭০ সাল পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার আদিবাসী শিশুদের তাদের বাড়ি থেকে নিয়ে শ্বেতাঙ্গ পরিবারে বড় করার বিধান চালু ছিল। ওই ৬০ বছরে কয়েক হাজার আদিবাসী এবং টরেস স্ট্রেইট দ্বীপপুঞ্জের বাসিন্দা এমন নীতির শিকার হয়েছেন। তারা পরিচিত ‘স্টোলেন জেনারেশন’ বা চুরি যাওয়া প্রজন্ম হিসেবে। এ ভুক্তভোগীরা কখনো সরকারের কাছ থেকে ক্ষতিপূরণ পাননি। এবার ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন চুরি যাওয়া প্রজন্মের ৮০০ জন।

মামলায় বাদী ওই ৮০০ জনকেও শিশুকালে তাদের পরিবার থেকে জোরপূর্বক বিচ্ছিন্ন করা হয়। আইনি প্রতিষ্ঠান শাইন লইয়ার্স গত বুধবার তাদের পক্ষে এ মামলাটি করেছেন। আরও কয়েক হাজার ভুক্তভোগী ভবিষ্যতে এ মামলায় যুক্ত হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রতিষ্ঠানটি পরামর্শক ট্রিস্টান গ্যাভেন বলেন, ‘স্বীকৃতি ব্যতীত তাদের ভবিষ্যতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।’

২০০৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কেভিন রুড শিশুদের জোরপূর্বক পরিবার থেকে বিচ্ছিন্নের জন্য আদিবাসী গোষ্ঠীর কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন। সে সময় তিনি বলেন, অতীতে যে অবিচার হয়েছিল তার পুনরাবৃত্তি আর কখনো হবে না।

এ ঘটনা মূলত ঘটেছে বিংশ শতকজুড়ে। তবে কিছু জায়গায় ১৯৭০ এর দশক পর্যন্ত মিশ্র বর্ণের শিশুদেরও তুলে নেওয়া হতো। যে শিশুদের পরিবার থেকে আলাদা করা হতো, তাদের কোনো আশ্রমে পাঠানো কিংবা কোনো সাদা পরিবারের কাছে দত্তক দেওয়া হতো। তাদের আদিবাসী ঐতিহ্য ভুলিয়ে দেওয়ার এবং জোর করে সাদাদের সংস্কৃতি আয়ত্ত করানোর চেষ্টা করা হতো। প্রায় সব শিশুই খুব অল্প শিক্ষিত কিংবা অশিক্ষিত হয়ে বড় হতো।

৮৪ বছর বয়সী হেথার অ্যালির সেই স্মৃতি এখনো মনে আছে। অস্ট্রেলিয়ার নর্দার্ন টেরিটোরির এ বাসিন্দাকে ৯ বছর বয়সে তার মায়ের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। তিনি বলেন, ‘তারা গোটা একটি প্রজন্মকে এমনভাবে মুছে দিয়েছে, যেন তাদের কোনো অস্তিত্বই ছিল না। আমি আইনি প্রক্রিয়ায় যোগ দিয়েছি কারণ মনে করি আমাদের কাহিনী প্রকাশ হওয়া উচিত।’ অস্ট্রেলিয়ার কয়েকটি রাজ্যে ভুক্তভোগী আদিবাসীদের জন্য কিছু কর্মসূচি থাকলেও ফেডারেল সরকার বরাবরই ক্ষতিপূরণের বিষয়টি এড়িয়ে গেছে। বুধবারের মামলায়ও ক্ষতিপূরণ বিষয়টি নির্দিষ্ট করে বলা হয়নি। জুনে মামলার প্রাথমিক শুনানি শুরু হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত