বড় জয়ে শিরোপার উদযাপন বায়ার্ন ও ইন্তারের

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০৪:৩৩ এএম

বড় জয়ে লিগ শিরোপা জয়ের উৎসব করেছে বায়ার্ন মিউনিখ ও ইন্তার মিলান। রবার্ট লেভানডোস্কির হ্যাটট্রিকে বরুশিয়া মনশেনগ্লাডবাখকে ৬-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে টানা ৯ম বুন্দেসলিগা জয়ী বায়ার্ন। আর অ্যালেক্সিজ সানজেড়ের জোড়ায় ইন্তার ৫-১ গোলে হারিয়েছে সাম্পদোরিয়াকে।

বায়ার্নের হাফ ডজন গোল

শনিবার মাঠে নামার আগেই বায়ার্ন মিউনিখের শিরোপা নিশ্চিত হয়ে যায়। দ্বিতীয় স্থানে থাকা লাইপজিগ হেরে যায় বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের কাছে ৩-২ গোলে। ফলে পয়েন্টের পার্থক্যের কারণে শিরোপা নিশ্চিত হয় বাভারিয়ানদের। পরে এবার নিজেদের ৩২তম ম্যাচে বায়ার্নের হাফ ডজন গোলে হারায় মনশেনগ্লাডবাখকে।

গত জানুয়ারিতে প্রথম দেখায় মনশেনগ্লাডবাখের মাঠে শুরুতে দুই গোলে এগিয়ে গিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরেছিল বায়ার্ন। সেই দলকেই নিজেদের মাঠে পেয়ে ছেলেখেলা খেলেছে  হান্স ফ্লিকের দল। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই আলবার পাস থেকে গোল করেন লেভানডোস্কি। ২৩ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন টমাস মুলার। ৩৪ মিনিটে লেভা করেন ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল। ৪৪ মিনিটে তার পাসে গোল করেন কিংসলে কোমান। ৬৫ মিনিটে পেনাল্টি থেকে হ্যাটট্রিক পূরণ করেন লেভা। ৮৫ মিনিটে লেরয় সানে গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় বাভারিয়ানদের। ৭৫ মিনিটে লাল কার্ড দেখেন বায়ার্নের কউসি।

লিগামেন্টে সমস্যার কারণে চার ম্যাচ মিস করে গত খেলাতে ফিরে এবারের লিগে তার ৩৬তম গোল দিয়েছিলেন। হ্যাটট্রিকে ২৭ লিগ ম্যাচে গোল দাঁড়াল তার ৩৯। বাকি দু’ম্যাচে আর এক গোল করলে স্পর্শ করবেন বুন্দেসলিগায় জার্ড মুলারের এক আসরে সর্বোচ্চ গোলের (৪০) রেকর্ড। ১৯৭১-৭২ মৌসুমে ৪০ গোল করেছিলেন জার্মান কিংবদন্তি।

৩২ ম্যাচে ৭৪ পয়েন্ট বায়ার্নের, সমান ম্যাচে ৬৪ পয়েন্টে দুইয়ে আছে লাইপজিগ। ব্ুেন্দসলিগা হয় ৩৪ রাউন্ডের।

বায়ার্নে মুলারের দশম : বায়ার্নের হয়ে দশটি লিগ শিরোপা জেতা হয়ে গেছে টমাস মুলারের। ২০০৯-১০ মৌসুমে প্রথম লিগ জেতেন বাভারিয়ানদের হয়ে। ২০১০-১১ ও ২০১১-১২ তে শিরোপা জিতেছিল বরুশিয়া ডর্টমুন্ড। এরপর টানা ৯ শিরোপার সঙ্গী হওয়ায় মুলার আবেগাপ্লুত, ‘এই বিষয়গুলো (১০ লিগ শিরোপা) স্বপ্নেও ভাবা যায় না। যখন আপনি ছোট থাকবেন, একদিন বায়ার্নে খেলবেন সেটাও হয়তো ভাবেন না। তখন স্টেডিয়ামে ঢোকার টিকিট পেলেই খুশি।’ শিরোপা সবার মিলিত চেষ্টায় আসে বলে মনে করেন মুলার। ‘আমাদের সব সময় দারুণ দল ছিল। এটি এমন নয় যে আমিই শিরোপাটি জিতিয়ে দিয়েছি।’ গ্লাডবাখের সঙ্গে ম্যাচ জয় বিষয়ে বলেন, ‘শিরোপা নয় মূল বিষয় আমরা প্রতিটি ম্যাচই জিততে চাই। এটি হলো অন্য দলের চেয়ে ভালো কিছু করার মানসিকতা। তবে এমনটি (জয় পাওয়া) সব সময় হয় না। কিন্তু সব সময়ই জয়ের ক্ষুধাটা থাকে।’

ইন্তার দিল ৫ গোল

২ মে আতালান্তা ও সাসুলোর ম্যাচ ড্র হওয়ায়, চার ম্যাচ বাকি থাকতেই নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল সিরি-আ ২০২০-২১ শিরোপা ইন্তার মিলানের। শিরোপা জেতার পর শনিবারই প্রথম মাঠে নেমেছিল আন্তোনিও কন্তের দল। স্টেডিয়ামের বাইরে হাজার খানেক সমর্থক যখন শিরোপা জয়ের উদযাপন করছিল, ভেতরে সান সিরোতে প্রিয় দল সাম্পদোরিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দেয়। শিরোপা নিশ্চত হয়ে যাওয়ায় এদিন নিয়মিত একাদশের অনেককেই খেলাননি কোচ কন্তে। ছিলেন না রোমেলু লুকাকু, ইভান পেরিসিচ। এমন ম্যাচে চতুর্থ মিনিটেই রবের্তো গাগলিয়ার্দিনির গোলে এগিয়ে যায় ইন্তার। ২৬ ও ৩৬ মিনিটে গোল করেন চিলির অ্যালেক্সিস সানচেজ। ৩৫ মিনিটে একটি গোল শোধ দিয়েছিল সাম্পদোরিয়া। তবে ৬১ মিনিটে আন্দ্রেয়া পিনামন্তি এবং ৭০ মিনিটে পেনাল্টি থেকে লাউতারো মার্তিনেজ গোল করলে বড় জয় নিশ্চিত হয় ইন্তারের। ৩৫ ম্যাচে ৮৫ পয়েন্ট ইন্তারের। একই দিন নাপোলি ৪-১ গোলে হারিয়েছে স্পেজিয়াকে। ৩৫ ম্যাচে নাপোলির পয়েন্ট ৭০।

অপেক্ষা বাড়ল সিটির

ম্যানচেস্টার সিটি’র প্রিমিয়ার লিগ শিরোপা নিশ্চিতের প্রহর আরও দীর্ঘায়িত হলো। গতকাল অ্যাস্টন ভিলার কাছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড হারলে শিরোপা নিশ্চিত হতো আগের রাতে চেলসির কাছে পরাজিত সিটির। সেই সম্ভাবনা জেগেছিল ভিলা শুরুতেই এগিয়ে যাওয়ায়। কিন্তু ব্রুনো ফার্নান্দেজ, ম্যাসন গ্রিনউড ও এডিসন কাভানির গোলে ম্যানইউর জয়ে অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে সিটি সমর্থকদের। ৩৫ ম্যাচে ৮০ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থাকা সিটির আর বাকি ৩ ম্যাচের একটিতে জিতলেই শিরোপা নিশ্চিত হবে। তাদের চেয়ে ১০ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকা ম্যানইউর খেলা বাকি ৪টি। সবগুলো জিতলে সর্বোচ্চ ৮২ পয়েন্ট পাবে তারা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত