প্রতিবেশীর রান্নাঘরে মিলল নিখোঁজ শিশুর বস্তাবন্দী লাশ

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০৩:১৬ পিএম

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে নিখোঁজের ৩ দিন পর প্রতিবেশীর রান্না ঘর থেকে আরাফত নামে দেড় বছরের এক শিশুর বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার দাড়েপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছপের মাল নামে প্রতিবেশীর রান্না ঘর থেকে ওই শিশুর লাশ উদ্ধার হয়।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ছপের মালের স্ত্রী কোহিনুরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

নিহত শিশু একই গ্রামের বাসিন্দা শরিফুল ইসলামের ছেলে। পারিবারিক সূত্রের দাবি, গত শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে শিশুটি নিখোঁজ ছিল।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানায়, সোমবার সকালে ছপের মালের রান্নাঘর ঘর দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় স্থানীয়রা টের পেয়ে জানতে পারে ওই বাড়ির গৃহবধূ কোহিনুর পূর্বেই পুঁতে রাখা লাশের দুর্গন্ধ দূর করতে লাশটি পুনরায় মাটিচাপা দেয়ার চেষ্টা করছিলেন।

এ ঘটনা প্রতিবেশীরা দেখে ফেলায় কোহিনুর পালানোর চেষ্টা করে। পরে স্থানীয়রা কোহিনুরকে আটক করে পুলিশে খবর দেয়।

দৌলতপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক সাহাদত হোসেন জানান, উপজেলার দাড়পাড়া গ্রামে শিশুর লাশ পাওয়া গেছে- এমন সংবাদ পেয়ে দৌলতপুর থানা-পুলিশ শিশুর লাশ উদ্ধার করে এবং স্থানীয়ের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জড়িত সন্দেহে ঘটনাস্থল থেকে কোহিনুর বেগম নামে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।

ধারণা করা হচ্ছে শুক্রবার সকালে শিশুটিকে অপহরণ করে কোহিনুর ও তার স্বামী ছপের মাল হত্যা শেষে রান্নাঘরের মাটি খুঁড়ে পুঁতে রাখে। তড়িঘড়ি করে সামান্য মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দী লাশ মাটির নিচে চাপা দেওয়ায় তা পচে দুর্গন্ধ ছড়ালে পুনরায় লাশ তুলে মাটি খুঁড়ে চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ওসি নাসির উদ্দিন জানান, উপজেলার দাড়পাড়া গ্রাম থেকে ৩দিন পূর্বে আরাফাত নামে দেড় বছর বয়সী এক শিশু নিখোঁজ ছিল।

সোমবার দুপুরের স্থানীয়দের দেয়া সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে শিশুটির বস্তাবন্দী লাশ উদ্ধার এবং জড়িত সন্দেহে একজনকে আটক করছে পুলিশ।

কিন্তু ঠিক কি কারণে এমন একটা অবুঝ শিশুকে হত্যা করা হয়েছে তার এ মুহূর্তে বলা সম্ভব নয়। তবে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে যে প্রতিবেশী দুই পরিবারের মধ্যে পূর্ব থেকে বিদ্যমান শত্রুতার কারণে কারণে এই হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত