বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, ‘আওয়ামী লীগ দেশের স্বাধীনতার সবগুলো মূল্যবোধকেই পায়ে পিষে মেরেছে। এ দেশে এখন সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আইনের শাসন’।
তিনি বলেন ‘সরকারের নির্দেশ ছাড়া জামিনও হয় না, রায়ও হয় না। এর উদাহরণ খালেদা জিয়া। তিনি কোনোদিন সেই ফান্ড দেখেনওনি, ট্রাস্টের তিনি কেউ নন। তাকে মামলা দিয়ে প্রথমে পাঁচ বছর পরে তা বাড়িয়ে সাত বছরের সাজা দেওয়া হয়েছে’।
ফখরুল বলেন, ‘দেশে আইনের শাসন নেই, আইনের প্রতি মানুষের আস্থা উঠে গেছে। আজ খালেদা জিয়ার তার শারিরীক অবস্থা অত্যন্ত খারাপ। এ সরকার অমানবিক, তাকে বিদেশে নিয়ে চিকিৎসা করা জরুরী হলেও সরকার যেতে দিচ্ছে না’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘যে ধারায় খালেদাকে মুক্তি দেওয়া হয়, সে ধারার কোনো অংশেই এটা বলা নেই যে, মুক্তিপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রয়োজনে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যেতে পারবেন না। ফলে সরকারের সদিচ্ছার অভাবেই তিনবারের একজন প্রধানমন্ত্রীর জীবনশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এ সরকার আইনের শাসনের ওপর সবচেয়ে বেশি আঘাত করেছে। এটা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ’।
রবিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও শহরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব বলেন।
আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে আইনজীবীদের ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আইনজীবী সমিতিগুলোর নির্বাচন আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি এ ব্যাপারে সব আইনজীবীদের ঐক্যবদ্ধ হবার আহ্বান জানান’।
তিনি আরো বলেন, ‘হাইব্রিড ধান , হাইব্রিড মুরগির মতো দেশে এখন একটি হাইব্রিড রেজিম চলছে। এরা আইন, গণতন্ত্র , নির্বাচন সবকিছুকে নিজেদের মতো করে ব্যবহার করছে, যাতে করে সবকিছু তারাই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে দেশে একটি কর্তৃত্ববাদী স্বৈরাচারি সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে’।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের সবগুলো স্তম্ভকেই নষ্ট করে দিয়েছে, নির্বাচন ও নির্বাচন কমিশনকে প্রহসনে পরিণত করেছে। অথচ সাম্প্রতিক মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও পশ্চিমবঙ্গেও বিধানসভা নির্বাচনে আমরা দেখলাম সেখানকার নির্বাচন কমিশন ও আদালত নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করায় ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে সেখানকার জনগণের রায়ের প্রতিফলন হয়েছে’।
তিনি বলেন, ‘প্রশাসনকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে যে, তারাই এখন আওয়ামী লীগের ভূমিকা পালন করছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচন উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম আয়োজিত সভায় মির্জা ফখরুল আরো বলেন, ‘আওয়ামী লীগ নিজেদের স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি হিসেবে দাবি করে, কিন্তু তারাই সবার আগে স্বাধীনতার সকল আশা-আকাঙ্ক্ষা পদদলিত করেছে’।
মতবিনিময় শেষে জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেলের পরিচয় করে দেন মির্জা ফখরুল।
