শেষ হচ্ছে প্রকল্পের মেয়াদ শুরু হয়নি নির্মাণকাজ

আপডেট : ১৮ মে ২০২১, ০৩:৫৮ এএম

নানামুখী জটিলতায় নির্ধারিত সময়ে শেষ হচ্ছে না রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী সোবহানবাগ মসজিদ নির্মাণকাজ। প্রকল্পের শেষ মুহূর্তে এসেও পুরোদমে কাজই শুরু করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। গণপূর্ত অধিদপ্তর, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেই মূলত এ জটিলতা তৈরি হয়েছে বলে দেশ রূপান্তরের অনুসন্ধানে জানা গেছে।

এদিকে প্রকল্পের অংশ হিসেবে অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থানে সেবা সংস্থার ভূগর্ভস্থ লাইন থাকায় নতুন করে আরও প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছে। এছাড়া এরই মধ্যে অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণের জন্য ধানম-ি এলাকায় প্রবেশের একটি সড়কের ওপর স্টিলের কাঠামো দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। ফলে দীর্ঘদিন ধরে ওই সড়কটিও ব্যবহার করতে পারছে না এলাকাবাসী। সব মিলিয়ে রাজধানীর সোবহানবাগ মসজিদ নির্মাণকাজ পিছিয়ে যাচ্ছে।

সোবহানবাগ মসজিদের নির্মাণকাজ বিলম্বের বিষয়ে জানতে চাইলে গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (ঢাকা-গণপূর্ত সার্কেল-১) মো. জামিলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের মধ্যে কাজের বিষয়ে কিছুটা জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তা আমরা সভা করে মিটিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে সোবহানবাগ মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্থপতি ইকবাল হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রেখে ঐতিহ্যবাহী এ মসজিদটির নকশা করে তা কর্র্তৃপক্ষকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে অস্থায়ী মসজিদ ও স্থায়ী মসজিদের জন্য পৃথক দুটি নকশা করে দেওয়া হয়েছে। অফিশিয়ালি গণপূর্ত থেকে ঠিকাদার ও আমাদের (পরামর্শক প্রতিষ্ঠান) কাজ বুঝিয়ে দিতে দেরি করেছে। এছাড়া আরেকটা সমস্যা হলো অস্থায়ী যে মসজিদটি নির্মাণ হবে তা একটি রাস্তার ওপর। সেখানে কোন সংস্থার সেবা লাইন কোন জায়গা দিয়ে গেছে তা কেউ বলতে পারছে না। সেখানে বিদ্যুতের ১২টি খুঁটি প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে। সেগুলো সরানোর জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন অনেকটাই সমস্যা কেটে গেছে। আর কাজ দেরি হওয়ার কোনো কারণ নেই।’

জানা গেছে, গত বছরের শেষদিকে ‘সোবহানবাগ মসজিদের আধুনিকায়ন ও ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। ৪৯ কোটি ৭৬ লাখ ৭৯ হাজার টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পটির ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় জামাল অ্যান্ড কোম্পানি নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে। মূল সড়ক থেকে ১৫ ফুট সরিয়ে মিরপুর সড়কের প্রশস্ত বাড়ানোসহ আধুনিক মসজিদ নির্মাণই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। ১৯৩৭ সালে নির্মিত এ মসজিদটিতে ক্রমবর্ধমান চাহিদায় নামাজ আদায় করতে আসা মুসল্লিদের স্থান সংকুলান হচ্ছিল না। সপ্তাহের ছয় দিন কোনোভাবে নামাজ আদায় করা গেলও শুক্রবারে এখানকার চিত্রটা ভিন্ন। মসজিদের ভেতরে জায়গা না পেয়ে শত শত মুসল্লি রাস্তায় নামাজ আদায় করেন। এতে একদিকে যেমন রোদ-বৃষ্টির দুর্ভোগে পড়েন মুসল্লিরা অন্যদিকে ঢাকার অন্যতম ব্যস্ত মিরপুর সড়কটিরও একটি অংশ বন্ধ হয়ে যায়। তাই এ ধর্মীয় স্থাপনাটিকে নান্দনিক নকশায় ১০ তলা ভবনে রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নেয় সরকার। এতে বর্তমানে যেখানে মাত্র ৬০০ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেখানে নতুন ভবনে ৩ হাজার ৬৯৫ জন মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন। সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে এ প্রকল্পটি হাতে নেয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এটি বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। চলতি বছরের ডিসেম্বরে পুরো প্রকল্পটির কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ঢাকার প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এ মসজিদটি দশমিক ৩৫ একর জমির ওপর মাওলানা মোহাম্মদ আবদুস সোবহান প্রতিষ্ঠা করেন। মসজিদটির বর্তমান পাঁচতলা ভবনের স্থলে সেমি বেজমেন্টসহ ১০ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। প্রথম তলায় রাস্তা লাগোয়া চারটি দোকান, সেমি-বেজমেন্টে একটি মাদ্রাসা, অগ্নিবহির্গমন দুটি সিঁড়ি, অজুর স্থান ও তিনটি অত্যাধুনিক লিফট থাকবে। মসজিদটি নির্মাণকালীন নামাজের কার্যক্রম চালু রাখার জন্য ধানম-ি ১৪ নম্বর সড়কের ওপর স্টিলের কাঠামোর একটি অস্থায়ী মসজিদ নির্মাণ করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক মো. জামিলুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আশা করছি নির্মাণকাজ শেষ হলে অত্যাধুনিক সুবিধা যেমন ভূগর্ভস্থ জলাধার, বিদ্যুতের সাব-স্টেশন, ১৫০ কেভি জেনারেটর, ২ হাজার কেজি ধারণক্ষমতার প্যাসেঞ্জার লিফট, পাম্প মোটরসেট, সাউন্ড সিস্টেম, অনগ্রিন সোলার সিস্টেম, অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা, এয়ারকুলার, ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরাসহ সবকিছু মিলিয়ে এটি একটি দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা হিসেবে বিবেচিত হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত