ঈদুল ফিতর উপলক্ষে যেভাবে মানুষ ঢাকা ছেড়েছিল, ঈদ শেষে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষজন ফিরতে শুরু করেছে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে। আর ফিরতে গিয়ে পথে-ঘাটে সড়কে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। শত যন্ত্রণা ও ভোগান্তি সহ্য করে তারা ফিরে আসছেন নিজেদের কর্মস্থলে।
মঙ্গলবার দুপুরে দৌলতদিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের কর্মস্থলে ফেরার যুদ্ধ। দৌলতদিয়া থেকে প্রায় প্রতিটি ফেরিতে গাদাগাদি করে মানুষজন যাচ্ছে পাটুরিয়া ঘাটে। স্বাস্থ্যবিধির কোনো ধরনের তোয়াক্কা করছে না মানুষজন। ঘাটে এসেই তারা হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন ফেরি জন্য।
তবে ঘাট সংশ্লিষ্ট থেকে জানা গেছে, বর্তমানে এই ব্যস্ততম দুই নৌরুটে ফেরির কোনো সংকট নেই সবগুলো ফেরি চলাচল করছে।
এদিকে গণপরিবহন বন্ধ থাকায় দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাচ্ছেন। এসব যাত্রীদের বেশির ভাগ, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, ট্রাক, ছোট বড় বিভিন্ন যানবাহনযোগে ঘাটে আসছেন।
গার্মেন্টস কর্মী মিলন ব্যাপারি বলেন, ঈদের ছুটি শেষ না হলে ভিড় এড়াতে আগেই কর্মস্থলে ফেরা, আমার বাড়ি যশোর, প্রায় দুইগুণ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে পৌঁছাতে পেরেছি, সাধারণ সময়ে ভাড়া ঢাকা পৌঁছাতে নন এসি বাসে সর্বোচ্চ ৫০০ টাকা হলেও সেখানে মাইক্রোবাসে ঘাটে আসতে ১০০০ টাকা ভাড়া দিতে হয়েছে। আবার ফেরি টিকিট ২৫ টাকার জায়গায় ৩০ টাকা নিচ্ছে। আমরা স্বল্প আয়ের মানুষ এইভাবে আর কতদিন। এখনো পাটুরিয়ায় যেতে পারলাম না, চিন্তায় আছি সেখান থেকে আবার কত ভাড়া লাগে ঢাকায় যেতে।
এ সময় কথা হয় কর্মস্থলে যোগ দিতে যাওয়া আসরাফুল রনির সাথে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন।
তিনি বলেন, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস সব চলছে। অথচ দূরপাল্লার বাস বন্ধ। সরকার যদি স্বাস্থ্যবিধি মেনে গণপরিবহন চালু করে দিতো তাহলে মানুষজনকে এত ভোগান্তিতে পড়তে হতো না। গণপরিবহন চালু থাকলে আমাদের অতিরিক্ত অর্থ গচ্চা দিতে হতো না। আর এইভাবে গাদাগাদি করে যানবাহন আর ফেরিতে চলাচলের কারণে করোনা ঝুঁকি আরও বাড়ছে বলে মনে করছি।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া শাখার সহকারী মহাব্যবস্থাপক ফিরোজ শেখ বলেন, যাত্রী চাপ সামলাতে আমরা পুরো প্রস্তুতি নিয়েছি। আমাদের এই নৌরুটে ১৫টি ফেরি চলাচল করছে, যা দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হচ্ছে। তবে গাদাগাদি করে যাত্রী পারাপারে এইখানে আমরা চাইলেও কিছু করতে পারছি না আমাদের লোকবল সংকট রয়েছে।
